প্রীতেশ বসু, কলকাতা: উন্নত পুর পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজন দক্ষ কর্মী ও অফিসার। আর সেই লক্ষ্যেই এবার ৩০ বছরের পুরনো ‘স্টাফ নর্মস’-এ আমূল পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এই নিয়ম রাজ্যের ১২১টি পুরসভায় প্রযোজ্য। এই বিষয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, উন্নত পরিষেবা দিতেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ।
১৯৯৫ সালে তৈরি এই নিয়মাবলিই রাজ্যের ১২১টি পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ের গাইডলাইন হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এই ‘নর্মস’ অনুযায়ী চললে আজ অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় কর্মী-অফিসার নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। সূত্রের খবর, অতীতে বহু ক্ষেত্রেই নিয়োগের প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব নয়, বহু ক্ষেত্রে নিয়োগ ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন এখন পুরসভাগুলিতে ল’ অফিসার, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার, এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রভৃতি নিয়োগ জরুরি। প্রশাসনিক মহলের খবর, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে জোর কদমে আইনি লড়াই চালাতে পাকাপাকিভাবে একজন ল’ অফিসারের’ ভীষণ দরকার। ফলে পুরসভার নিজস্ব চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ী ল’ অফিসার নিয়োগ করার দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে। একইভাবে সমস্ত পুরসভাতেই অ্যাম্বুলেন্স, ট্র্যাক্টর এবং অন্যকিছু গাড়ির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে পুরসভাগুলিতে মোটর ভেহিকেল বা অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন। আবার ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে পুরসভাগুলিতে গৃহীত প্রকল্প বাবদ খরচও অনেক বেড়েছে। এই সমস্ত প্রকল্পের কাজের অনুমোদন থেকে শুরু করে সেগুলির রূপায়ণ সুষ্ঠুভাবে করতে প্রয়োজন একজন করে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। আবার বিভিন্ন পুরসভায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধিও দরকার। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই নতুন ‘স্টাফ নর্মস’-এর খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
কোন কোন পুরনো পদ এখন বাহুল্য? সময়োপযোগী কী কী নতুন পদ সৃষ্টি করা দরকার? বিভাগীয় মন্ত্রীর নির্দেশ মেনে অনেকগুলি পুরসভার চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জনসংখ্যাসহ একাধিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ১২১টি পুরসভাকে পাঁচটি (গ্রুপ এ, বি, সি, ডি এবং ই) ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন গ্রুপ এ’তে রয়েছে বালি, বরানগর, বারাসত, বর্ধমান, ভাটপাড়া, দার্জিলিং, কামারহাটি, মহেশতলা, নৈহাটি, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, পানহাটি, রাজপুর-সোনারপুর এবং উলুবেড়িয়া। আর ‘গ্রুপ বি’-তে রয়েছে বহরমপুর, ইংলিশবাজার, হলদিয়া, হুগলি-চুঁচুড়া, খড়্গপুর, মধ্যমগ্রাম, রায়গঞ্জ ও শ্রীরামপুর। এই সমস্ত পুরসভায় ল’ অফিসার নিয়োগ করার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে নতুন নিয়মে একটি গ্রুপের সমস্ত পুরসভার জন্য সমান সংখ্যক কর্মী-আধিকারিক নিয়োগের বিষয়টি মান্যতা পাবে। এতে একই গ্রুপ-ভুক্ত পুরসভাগুলির মধ্যে সমতা আসবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। গ্রুপ-এ পুরসভাগুলিতে একজন করে অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট রাখা হতে পারে। তবে বর্তমানে যেসমস্ত পদ সময়োপযোগী বলে চিহ্নিত হবে, তাতে কর্মরত কর্মীদের বহাল রেখেই সেগুলিকে ‘ডায়িং ক্যাডার’ হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাবনা বেশি। রাজ্যের এই উদ্যোগে উচ্চপদ সৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কর্মী-অফিসারদের পদোন্নতির সুযোগ অনেকটাই বাড়বে। মত প্রশাসনিক মহলের।