সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: পুজোর আগে এক ধাক্কায় ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল থেকে ১০ জন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। পুজো শেষে নতুন তিন জন চিকিৎসক যোগদান করলেও এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল। তার উপর দীর্ঘদিনের কর্মী সংকট এবং প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ সিজার পরিষেবা। সব মিলিয়ে হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ৩৯ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত মাত্র ৮ জন। স্থায়ী সাফাই কর্মীও নেই। মাত্র দু’জন অস্থায়ী সাফাই কর্মীর উপর নির্ভর করেই বিশাল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের এই কর্মী সংকটের কথা লিখিতভাবে স্বাস্থ্যভবনকে জানানো হলেও এখনও শূন্যপদ পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ।
চিকিৎসকের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে আউটডোর-সহ বিভিন্ন বিভাগে। ভর্তি থাকা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের নজরদারি নিয়েও অভিযোগ উঠছে। চিকিৎসকের দেখা না পাওয়া এবং পরিষেবা নিয়ে রোগীর পরিজনদের একাংশের ক্ষোভ রয়েছে। অন্যদিকে এক মাস ধরে সিজার পরিষেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ছে প্রসূতি ও তাঁদের পরিবার। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত এই পরিষেবা চালুর দাবি উঠছে।
ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের মুখপাত্র জয় বসাক বলেন, মহকুমা হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও জনবল এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তারমধ্যেই একসঙ্গে ১০ জন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। তিন জন চিকিৎসক যোগ দিলেও বাকি চিকিৎসকরা না আসায় সংকট পুরোপুরি কাটেনি। অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি সিজার পরিষেবা চালু করতে হবে। পূরণ করতে হবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী ও সাফাই কর্মীদের শূন্যপদও। যদিও ধূপগুড়ি মহকুমার স্বাস্থ্য আধিকারিক সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, তিন জন চিকিৎসক এসেছেন। শীঘ্রই বাকি চিকিৎসকরা চলে আসবেন।
মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি হাসপাতালে কবে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মী নিয়োগ হবে, এখন সেই প্রশ্নই উঠছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন ধূপগুড়ির বাসিন্দারা।



