জ্বর, সর্দি কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, সর্তক করছেন চিকিৎসকরা
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ঘরে ঘরে জ্বর ও সর্দি কাশিতে কাবু শিশু থেকে বৃদ্ধ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অসংখ্য মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হচ্ছেন। নতুন করে বাড়ছে ভাইরাল জ্বরের দাপট। শহর থেকে গ্রাম প্রায় প্রতিটা পরিবারেই কেউ না কেউ জ্বরে কাবু। হাসপাতালের আউটডোরে বাড়ছে রোগী। একইসঙ্গে বাইরেও ডাক্তার দেখাতে লম্বা লাইন। জ্বর ও ঠান্ডা লাগার উপসর্গগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ধরা এবং খাওয়ায় অনীহা। চিকিৎসকদের মতে, মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের ফলে এই জ্বরের প্রকোপ। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ‘ভাইরাল মায়োসাইটিস’, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। 

Advertisement

কেউ কেউ ৩-৭ দিনের মধ্যেই সেরে উঠছেন, আবার অনেকেই ১০-১৪ দিন ধরে ভুগছেন। কাশি এতটাই যন্ত্রণাদায়ক যে ঘুমোতে পারছেন না আক্রান্তরা। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাতেই কিছুটা স্বস্তি মিলছে।’
মুর্শিদাবাদ মেডিকেলের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কৃষানু দে বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব শিশু আসছে, তাদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত। সদ্যোজাত থেকে ১৭ বছরের কিশোর, কারো রেহাই নেই। অনেক সময় ভাইরাল সংক্রমণের পরেই পেশিতে তীব্র ব্যথা, হাঁটতে পারছে না শিশুরা। ভাইরাল জ্বরের পরই আচমকা পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান এবং হাঁটতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বহু শিশুর মধ্যে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ভাইরাল মায়োসাইটিস। বিশেষ করে ভাইরাল ইনফেকশন বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পর শিশুদের মধ্যে এই ধরনের পেশির ব্যথা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে জ্বর, সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার মতো সাধারণ ভাইরাল উপসর্গ দেখা যায়। কয়েক দিন পর জ্বর কমে যাওয়ার সময় বা তার পরেই শুরু হয় পায়ের পেশিতে তীব্র ব্যথা। শিশু হাঁটতে চাইছে না, খুঁড়িয়ে হাঁটছে কিংবা একেবারেই দাঁড়াতে পারছে না—এমন উপসর্গও দেখা দিতে পারে। সাম্প্রতিক একটি শিশু-চিকিৎসা সংক্রান্ত কেস রিপোর্টেও ভাইরাল অসুস্থতার পর ছয় বছরের শিশুর তীব্র শরীরব্যথার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ভাইরাল মায়োসাইটিসের বিষয় জানা যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ভাইরাল জ্বরকে সাধারণ অসুখ মনে করে অবহেলা না করে, জ্বর কমার পর শিশুর আচরণ ও হাঁটাচলার পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখুন।