গুয়াহাটি: দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে বুধবার গুয়াহাটি পৌঁছলেন ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। ঘাড়ের ব্যথায় কাবু শুভমান গিলও ছিলেন সফরসঙ্গী। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি অবশ্য টিম বাসে ওঠেননি। তাঁকে আলাদা গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় হোটেলে। ভারত অধিনায়ক এখন টিম ইন্ডিয়ার মেডিকেল টিমের পর্যবেক্ষণে। ইডেনে ব্যাট করার সময় ঘাড়ে টান ধরেছিল তাঁর। পরে আর খেলতে পারেননি। হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। আপাতত অনেক সুস্থ। ম্যাচ কন্ডিশনে আসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। গিল ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত। তাই বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে। গিল খেলতে না পারলে সুদর্শন ফিরতে পারেন। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সরফরাজ খান, করুণ নায়ার কিংবা অভিমন্যু ঈশ্বরণের মধ্যে কাউকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।
দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ নভেম্বর। গুয়াহাটিতে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ। স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। এখানে পিচ তৈরি হয়েছে লাল মাটিতে। খোদ বোর্ডের কিউরেটর কমিটির চেয়ারম্যান আশিস ভৌমিকের তত্ত্বাবধানে। গুয়াহাটিই তাঁর হোম টাউন। ইডেন টেস্ট শেষ হওয়ার পরেই এখানে চলে এসেছেন চিফ কিউরেটর। কোচ গৌতম গম্ভীর কেমন পিচ চাইছেন, সেই বার্তা রয়েছে তাঁর কাছে। লাল মাটিতে পিচ তৈরি হলে পেস ও বাউন্স দুটোই থাকে ভালো। সুবিধা হয় পেসারদের। সেই কারণে নতুন বলে পেসারদের খেলতে সমস্যায় পড়বেন ব্যাটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ কিছুটা দুর্বল হয়েছে রাবাডার চোটে। তিনি অনিশ্চিত। লুঙ্গি এনগিডিকে দলে যুক্ত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজমেন্ট। মার্কো জানসেন দুরন্ত ফর্মে। পেস সহায়ক পিচে তিনি আরও বিপজ্জনক। ইডেনে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের দুই ওপেনার আউট হয়েছিলেন তাঁর বলে। তাই শুধু পেস নয়, স্পিনারদের জন্য রসদ থাকুক পিচে, তেমনটাই চাইছে ভারতীয় দল। খেলা গড়ালে বল টার্ন করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আসলে এর আগে কখনও গুয়াহাটিতে টেস্ট হয়নি। ফলে দুই দলের কাছে বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
গুয়াহাটিতে চাপটা বেশি ভারতের উপর। কারণ, প্রথম টেস্টে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছেন ঋষভরা। দ্বিতীয় টেস্ট জেতা ছাড়া কোনও উপায় নেই। ম্যাচ ড্র হলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ জিতবে। হারলে সঙ্গী হবে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। তাই ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে জিততে মরিয়া গম্ভীর-ব্রিগেড।