শুভজিৎ অধিকারী, কলকাতা: ব্যস্ততাময় আমাদের জীবন। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছি অন্তহীন পথ। ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে ফেলছি নিজেদের। হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে খুঁজছি পরিত্রাণের পথ। আর এই ভাবনার উপর ভিত্তি করে এবার সেজে উঠছে কসবার বোসপুকুর তালবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। থিম ‘পরিত্রাণ’। এই ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন ২০ বছরের সায়ন্তিকা কর্মকার।
মণ্ডপে প্রবেশের পর কিছুটা করিডরের মত অংশ। তার দু’পাশ বিভিন্ন ইনস্টলেশন দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে। যা আমাদেরই জীবনের বিভিন্ন প্রতীক। মণ্ডপে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, পরিত্রাণ মানে পালানো নয়, চিরন্তন সত্যের মুখোমুখি হওয়া। দেবী দুর্গাকে এখানে সকলের মঙ্গল কামনায় ধ্যানমগ্ন রূপে দেখা যাবে। তিনিও যেন চিরন্তন সত্যের মুখমুখি হতে চলেছেন।শিল্পের সঙ্গেই তালবাগানে বারবার চলে আসছে শিল্পীর কথা। এত কম বয়সে প্রথম সারির কোনও দুর্গাপুজো আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার নজির বিরল। হেরম্বচন্দ্র কলেজের ছাত্রী সায়ন্তিকা জানালেন, আঁকা ও মূর্তি বানানো শিখেছেন তিনি। অর্জিত শিক্ষাকে হাতিয়ার করে মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে চান। হাজার হাজার মানুষ তাঁর তৈরি প্রতিমা ও মণ্ডপ দেখবে, টেনশন হচ্ছে? উত্তরে কনফিডেন্ট সায়ন্তিকা। জানালেন, তাঁর কাজ সকলের ভালো লাগবে বলে আশাবাদী তিনি।
অনভিজ্ঞ শিল্পী কেন? উত্তরে বোসপুকুর তালবাগান সর্বজনীনের কার্যকরী সভাপতি শুভেন্দু ঘোষ জানালেন, পুরনো বহু শিল্পীই তাঁদের দুর্গাপুজোর দায়িত্ব সামলেছেন। এবার নতুন শিল্পীদেরও দায়িত্ব দিয়ে তাঁরা তুলে ধরতে চান। নতুন এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দুবাবুও। নতুন শিল্পীর জন্য বাজেটেও কার্পণ্য করছেন না তাঁরা।
তালবাগান থেকে কিছুটা এগলেই বোসপুকুর শীতলা মন্দিরের দুর্গাপুজো। এবার তাদের থিম ‘কালরক্ষণ’। ফেলে আসা সময়, অতীতের বিভিন্ন নিদর্শনকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শীতলা মন্দির সর্বজনীনের সম্পাদক কাজল সরকার জানালেন, সভ্যতার আদিকাল থেকে মানুষ তাঁর প্রয়োজনে বহু আবিষ্কার করেছে। কিন্তু সৃষ্টির প্রতি যতটা মানুষ যত্নশীল ছিল, সেগুলি সংরক্ষণের বিষয়ে ততটা মনোযোগ দেয়নি। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বহু নিদর্শন হারিয়ে গিয়েছে। তাই ফেলে আসা অতীতকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছেন তাঁরা। শীতলা মন্দিরের মণ্ডপের অন্দর যেন এক টুকরো জাদুঘর। সেখানে বাংলার বিভিন্ন শিল্পশৈলী ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী তুষারকান্তি প্রধান। প্রতিমা তৈরির দায়িত্বেও তিনি। পাড়ার ছেলে তুষার এবারই প্রথম শীতলা মন্দিরের পুজোয় কাজ করছেন। একই অর্থে, তাঁরও ঘরে ফেরা। তুষার জানালেন, মণ্ডপ সাজাতে উড-কার্ভিং, ব্লক প্রিন্ট ব্যবহার হচ্ছে। দেবী সাজবেন গ্রাম্য নারীর সাজে, হাতে থাকবে কাস্তে। কাজ চলছে দ্রুত, অপেক্ষা শুধু আর কয়েক দিনের।