নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ঘড়ির কাঁটা ১১টা ছুঁইছুঁই। তখনও স্কুলের গেট খোলেনি। বিদ্যালয়ে ঢুকতে না পেরে ছাত্রছাত্রীরা সামনের রাস্তায় ছোটোছুটি করছে। কেউ আবার স্কুলের পাশে থাকা বটগাছের ঝুরি ধরে দোল খাচ্ছে। পরে প্রধান শিক্ষক পৌঁছে স্কুলের তালা খোলেন। প্রধান শিক্ষক পৌঁছনোর বেশ কিছুক্ষণ পর দুই শিক্ষিকা স্কুলে আসেন। বুধবার বাঁকুড়া-২ ব্লকের বিকনা অঞ্চলের বাঁকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওই চিত্র চোখে পড়ে। জেলার অন্যান্য স্কুলের হালও তথৈবচ।
বাঁকুড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকদের একাংশ অনিয়মিত যাতায়াত করছেন বলে অভিভাবকরা অভিযোগ তুলেছেন। জেলা স্কুল শিক্ষাদপ্তরের নজরদারির অভাবেই তা ঘটছে বলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ। যদিও স্কুলের নিয়মিত নজরদারি চালানো হয় বলে বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) জগবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও এডুকেশন সুপারভাইজাররা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। জেলার ৩৫৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় যাতে সময়ে খোলা ও বন্ধ হয়, সেদিকে আমরা নজর দেব। সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ের গেট খুলে যাওয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে স্কুলে পৌঁছে যেতে হবে।
বাঁকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, অন্যান্য দিন নির্দিষ্ট সময়েই বিদ্যালয়ে পৌঁছে যাই। এদিন কিছুটা দেরি হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনেই স্কুলের যাবতীয় কাজ করে থাকি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের এক রাঁধুনি বলেন, প্রায় দিনই শিক্ষক-শিক্ষিকারা দেরিতে স্কুলে আসেন। ফলে তাড়াহুড়ো করে আমাদের রান্না করতে হয়। যে কোনও পদ রান্না করে ছাত্রছাত্রীদের খাইয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকার আমাদের তাড়া দেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে অনিয়মিত হাজিরার অভিযোগ উঠেছে। ‘আসি যাই মাইনে পাই’ গোছের লোকজনের জন্য নিষ্ঠাবান শিক্ষকদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। এনিয়ে তাঁরা আপত্তিও জানান। তবে ফাঁকিবাজদের মাথার উপর রাজনৈতিক নেতাদের হাত থাকায় তাঁদের আপত্তি ধোপে টেকে না।
উল্লেখ্য, এই সমস্যা মেটাতে আগে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে দৈনিক হাজিরা নিয়ে ‘এসএমএস’ ব্যবস্থা চালু ছিল। স্কুলে কতজন উপস্থিত হয়েছেন, তা দিনে দু’বার প্রধান শিক্ষকদের জানাতে হতো। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও এবং এলাকার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে ওই তথ্য পাঠাতে হতো। অতিরিক্ত জেলাশাসক পদমর্যাদার এক আধিকারিক সামগ্রিক নজরদারি চালাতেন। যে কোনওদিন প্রশাসন বা শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা স্কুলে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করতেন। তখন প্রধান শিক্ষকের পাঠানো তথ্য মিলিয়ে দেখা হতো। ফলে প্রধান শিক্ষকরাও সঠিক তথ্য দিতে বাধ্য হতেন। পরে অবশ্য ওই ব্যবস্থা বিশবাঁও জলে চলে যায়। সম্প্রতি জেলার উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষা দপ্তরের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক মাধ্যমিক পীযূষকান্তি বেরা বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়ম মেনে স্কুলে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট নেওয়ার কথা।