Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

পণ্ডিত ও মহারাজা

ছেলের কান্নার শব্দ শুনে ধড়মড় করে উঠে বসলেন হরিরাম। সবে দুপুরের খাওয়া শেষ করে শুয়েছেন তিনি, চোখটাও লেগে এসেছিল। এমন সময় এ কী কাণ্ড! চতুষ্পাঠী থেকে ফেরার পথে ছেলেকে সাপে কামড়াল নাকি! যা জঙ্গুলে জায়গা!

পণ্ডিত ও মহারাজা
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: ছেলের কান্নার শব্দ শুনে ধড়মড় করে উঠে বসলেন হরিরাম। সবে দুপুরের খাওয়া শেষ করে শুয়েছেন তিনি, চোখটাও লেগে এসেছিল। এমন সময় এ কী কাণ্ড! চতুষ্পাঠী থেকে ফেরার পথে ছেলেকে সাপে কামড়াল নাকি! যা জঙ্গুলে জায়গা! 

Advertisement

হরিরামের চোখ থেকে ঘুমের শেষ রেশটুকুও মুছে যেতে দেরি হল না। তিনি ছুটে এলেন বাইরের ঘরে। আর সেখানে যে দৃশ্য দেখতে পেলেন, তাতে তিনি আঁতকে উঠলেন। ‌
ভৈরবের মা বিন্দুবাসিনী কিশোর পুত্রকে প্রায় কোলে নেওয়ার ভঙ্গিতে বাবু হয়ে বসে আছেন মাটিতে। তাঁর কোলে মুখ গুঁজে ভৈরব হাউহাউ করে কেঁদে চলেছে। 
হরিরাম কৃষ্ণনগরের একজন বড়োলোক মানুষ। ‌ জমিজমা আছে বিস্তর, ব্যবসাও। স্বয়ং মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র পালায়-পার্বণে তাঁকে নিমন্ত্রণ করে থাকেন। তাঁর ছেলের এই ভর-দুপুরবেলায় এমন কী ঘটে গেল? 
হরিরাম প্রায় ছুটে এসে বসে পড়লেন মাটিতে। তারপর ছেলের পিঠে হাত রেখে নরম গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী হয়েছে বাবা? এমনভাবে কাঁদছ কেন? শরীর সুস্থ আছে তো?’ 
ভৈরব এবার মাকে ছেড়ে বাবার বুকে মুখ গুঁজে আবার ডুকরে কেঁদে উঠল। 
এ কান্না যে শারীরিক অসুস্থতার কারণে নয়, এতক্ষণে অবশ্য সে কথা বুঝতে পেরে গিয়েছেন হরিরাম। ছেলের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে আবার তিনি বললেন, ‘তোমাকে কেউ কিছু বলেছে? আমায় বল। এমন অবুঝের মতো কাঁদলে তো আমরা কিছুই বুঝতে পারব না বাছা!’
কোনোক্রমে প্রবল কান্নার বেগ সংবরণ করে ভৈরবচন্দ্র বলল, ‘গুরুমশাই আমাকে চতুষ্পাঠী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বাবা।’ 
হরিরামের চোখ কপালে উঠে গেল। ভৈরবের মতো শান্তশিষ্ট ছেলে আর হয় না। গুরুকে সে ঈশ্বরের সমতুল্য বলেই জ্ঞান করে। যতদূর হরিরাম শুনেছেন, গুরুও তাঁর এই শিষ্যটিকে অসম্ভব স্নেহ করেন। 
তিনি নিশ্চয়ই ভুল শুনছেন। অমন দেবতুল্য মানুষ ভৈরবকে কোনোক্রমেই চতুষ্পাঠী থেকে তাড়িয়ে দিতে পারেন না। 
তবু তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেন বাছা? পাঠ মুখস্থ করে যাওনি? অন্য কোনো ছেলের সঙ্গে মারামারি করেছ?’ 
আহত দৃষ্টিতে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ভৈরব বলল, ‘গুরুমশাই বললে আমি পড়া তৈরি করে যাব না? আর ছেলেবেলা থেকে আজ পর্যন্ত কখনো কোনো বন্ধুর সঙ্গে আমার ঝগড়া পর্যন্ত হয়নি। আমি যাব তাদের সঙ্গে মারামারি করতে?’
এবার অধৈর্য হয়ে হরিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘অমন মহাপণ্ডিত মানুষ তো অকারণে তোমাকে পাঠশালা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারেন না ভৈরব! কোনো একটা অপরাধ তুমি নির্ঘাত করেছ! এখন ভয়ে সে কথা বলতে পারছ না।’ 
এতক্ষণে মুখ খুললেন বিন্দুবাসিনী, ‘তুমি একটু থাম দেখি বাপু! এমনিতেই ছেলের আমার কাঁদতে কাঁদতে হিক্কা উঠে গেল! তার মধ্যে উনি এসেছেন জেরা করতে। বল দেখি বাবা, ঠিক কী ঘটেছিল আজ পাঠশালে? সত্যিই কোনো অপরাধ করেছিস? কিন্তু তার জন্য গুরুমশাই একেবারে তাড়িয়ে দেবেন কেন তোকে?’ 
কয়েক মুহূর্ত অসম্ভব অভিমানী চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থেকে ভৈরব ফিসফিস করে বলল, ‘আমার চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে মা!’ 
এইবার ফ্যাকাসে হয়ে গেল ভৈরবের মায়ের মুখ, ‘কী সর্বনাশ! ধরা পড়ে গেছিস?’ 
হরিরাম বিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন নিজের স্ত্রী এবং ছেলের দিকে। কয়েক শত বিঘা জমির মালিক তিনি। আর তাঁর ছেলে কি না চুরি করে ধরা পড়েছে? তাও আবার এক নিঃস্ব ব্রাহ্মণের ঘরে! 
‘এমন সর্বনাশ কী করে ঘটল বাবা?’ আবার চাপা গলায় জিজ্ঞাসা করলেন বিন্দুবাসিনী। ‌
অধৈর্য হরিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘দাঁড়াও! ভৈরব চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে? কী চুরি করেছিল? তোর চুরি করার দরকার পড়ল কেন রে হতভাগা?’ তাঁকে একেবারে স্তম্ভিত করে দিয়ে বিন্দুবাসিনী কড়া গলায় বললেন, ‘বাড়িময় চাকরবাকর ঘুরে বেড়াচ্ছে।‌ অমন চিৎকার 
করছ কেন!’ 
হরিরাম থতমত খেয়ে বললেন, ‘কী বলছ গিন্নি! এরপরেও মাথা ঠিক থাকে? হতভাগা চুরি করে ধরা পড়ল, আর তুমি বলছ...।’
‘ঠিকই বলছি। এখন চুপ কর। ওকে বলতে দাও। ঠিক করে বল দেখি বাছা, আজ কী ঘটেছিল,’ নরম গলায় বললেন বিন্দুবাসিনী। 
ভৈরব চোখ মুছে বলল, ‘‘কালকেই গুরুমশাইয়ের ভাঁড়ারে উঁকি দিয়ে দেখেছিলাম, চাল একেবারে বাড়ন্ত। শাকসবজিও নেই। তেল তো প্রায় কখনোই থাকে না। আজ তাই চুপিচুপি ভাঁড়ার-ঘরে ঢুকেছিলুম চালের হাঁড়িতে কয়েক সের চাল রেখে দেব বলে। তেলের একটা শিশিও নিয়ে গিয়েছিলুম তার সঙ্গে। এমন সময় গুরুমা ঢুকে পড়লেন। ‌আমাকে দেখেই তিনি সব বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন। মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘এ কী করলে বাবা! তোমার গুরুমশাই শুনলে বড়ো দুঃখ পাবেন।’ আমি তাঁকে বললুম...।’’
হরিরাম কোনোক্রমে বললেন, ‘তুই চুরি করে গুরুমশাইয়ের ভাঁড়ারে চাল রাখতে গিয়েছিলি?’ ভৈরব ধরা গলায় সে বলল, ‘কী করব বাবা? আমি রোজ বাড়িতে ভালো ভালো খাবার খাই। আর আমার বন্ধুরা খায় বেগুনপোড়া কিংবা তেঁতুলের ঝোল দিয়ে ভাত। গুরুমশাই, গুরুমা— সবাই ওই-ই খান। তাও অর্ধেক দিন আধপেটা খেয়ে থাকেন। আমি তাই মাঝে মাঝে লুকিয়ে তাঁর ভাঁড়ারে চাল, তেল, কিছু শাকসবজি দিয়ে আসতাম। আজ একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেলুম। তাও শুধু গুরুমা দেখলে হয়তো তাঁকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বেরিয়ে আসতে পারতাম। এমন কপাল, ঠিক সেই সময় গুরুমশাই ঢুকে পড়েছিলেন। সটান আমাকে বলে দিলেন, কাল থেকে আমি যেন আর চতুষ্পাঠীতে না আসি।’ বলতে বলতেই আবার হাউহাউ করে কেঁদে উঠল ভৈরব। 
‘চুরি করে চাল রাখতে গিয়েছিলি!’ আবার বললেন হরিরাম। তারপর গৃহিণীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি তো সবই জানতে বলে মনে হচ্ছে!’ 
বিন্দুবাসিনী ভাঙা গলায় বললেন, ‘আমি না জানলে ছেলে চাল নিয়ে যাবে কোত্থেকে, শুনি?’ 
‘আর সেই অপরাধে গুরুমশাই পাঠশালা থেকে বের করে দিলেন?’ স্তম্ভিত গলায় বললেন হরিরাম। 
‘আর কক্ষনো যেতে বারণ করেছেন বাবা!’ আবার কেঁদে উঠল ভৈরব। 
কয়েক মুহূর্ত হতবাক হয়ে বসে থেকে উঠে পড়লেন হরিরাম। এই অন্যায়ের একটা বিহিত হওয়া দরকার। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে না বললেই নয়। 
....
বেশ কিছুক্ষণ বিস্ফারিত চোখে হরিরাম শেঠের দিকে তাকিয়ে থেকে কৃষ্ণচন্দ্র বললেন, ‘চাল দিতে গিয়েছিল বলে তাড়িয়ে দিয়েছেন! এ কেমন গুরু? ছাত্ররা গুরুদক্ষিণা দেবে না? তাহলে টোল চলবে কী করে? আপনি কোন গুরুর কথা বলছেন বলুন দেখি?’ 
হরিরাম সসম্ভ্রমে বললেন, ‘আজ্ঞে মহারাজ, ইনি হলেন রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত। নবদ্বীপের বাইরে, জলঙ্গীর ধারে জঙ্গলের মধ্যে এঁর চতুষ্পাঠী।’ 
কৃষ্ণচন্দ্র ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘এই নামের কোনো পণ্ডিতের কথা তো আমি জানি না! কৃষ্ণনগরের সমস্ত পণ্ডিতকে আমি ভূমি দান করেছি টোল তৈরি করার জন্য। অর্থসাহায্যও করে থাকি নিয়মিত। এঁর নাম কখনো শুনেছি বলে তো মনে পড়ছে না।’ 
‘আজ্ঞে তিনি কখনো আপনার দরবারে আসেননি। তাই বোধহয়...।’ 
‘তাহলে তাঁর টোলে ছাত্র আসে কী করে?’ 
হঠাৎ পিছন থেকে শোনা গেল এক পরিচিত কণ্ঠস্বর, ‘বনের মধ্যে ফুল ফুটলেও তার সৌরভ গোটা অরণ্যে রাষ্ট্র হয়ে যায়। রামনাথ প্রকৃতই মহাপণ্ডিত, মহারাজ। দেশ-দেশান্তর থেকে তাঁর কাছে ছাত্ররা আসে পড়তে।’ 
কৃষ্ণচন্দ্র অবাক হয়ে দেখলেন, তাঁর সভাপণ্ডিতদের অন্যতম, বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার দাঁড়িয়ে রয়েছেন হরিরামের পিছনে। তাঁর মুখে গভীর শ্রদ্ধার রেখা। 
কয়েক মুহূর্ত ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষণা করলেন, ‘কাল সকালে আমি ওই পণ্ডিতের টোল পরিদর্শন করতে যাব। শেঠ মশাই, আপনি আমার সঙ্গে যাবেন।’ 
....
পরদিন সকালে অবশ্য এক বিপুল বিস্ময় অপেক্ষা করছিল মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জন্য। 
নবদ্বীপের উপকণ্ঠে জলঙ্গী নদীর পাড়ের বনে একটি প্রকাণ্ড তেঁতুলগাছের নীচে পাঠের আসর বসেছে। বাঁশ, গাছের ডাল এবং লতাপাতা দিয়ে বানানো একটি অতি জীর্ণ কুটিরের সামনে মাটিতে বসে আছেন এক মাঝবয়সি শীর্ণকায় ব্যক্তি। তাঁর পরনে অতিশয় মলিন ধুতি, ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত, উপবীত সম্বল। সামনে বসা অসংখ্য কিশোর ও যুবক ছাত্রের মৃদু কণ্ঠের গুঞ্জনে মৌচাকের মতো একটা শব্দ হচ্ছে। 
‘উনিই রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত।’ মৃদু গলায় বললেন হরিরাম। 
এই পণ্ডিতের দিকে তাকিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র এক অজানা অস্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করলেন। গুরুগৃহ থেকে শিক্ষালাভ শেষ করে বেরিয়ে নদীয়ার যে কোনো পণ্ডিত সবার আগে তাঁর কাছেই আসে। সাহায্য প্রার্থনা করে। তিনিও বরাবর তা মঞ্জুর করে এসেছেন বিনা দ্বিধায়। কিন্তু এই অযাচী ব্রাহ্মণ পণ্ডিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন। 
এমন সময় একজন ছাত্র মুখ তুলে তাকিয়েই দেখতে পেল, সপারিষদ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র স্বয়ং দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁদের গুরুর দিকে তাকিয়ে। কিছু না-ভেবেই সে চিৎকার করে উঠল, ‘গুরুমশাই, মহারাজ এসেছেন আপনার সঙ্গে দেখা করতে।’ 
গুরুমশাই যেভাবে মুখ তুলে তাকালেন, তাতে বুঝতে অসুবিধা হল না, পাঠদানের সময় এই আকস্মিক সৌভাগ্য তাঁকে বিশেষ খুশি করতে পারেনি। তবু শিষ্টাচার রক্ষা করতে তিনি উঠে এসে দাঁড়ালেন কৃষ্ণচন্দ্রের সামনে। তাঁর প্রশস্ত ললাটে জ্ঞানের অভিমান, কিন্তু দেহটি অনাহারে শীর্ণ। 
কয়েক মুহূর্তের জন্য কৃষ্ণচন্দ্র স্থির করতে পারলেন না, এঁকে কী বলা যায়। স্পষ্টতই ইনি অসম্ভব দরিদ্র, কিন্তু মহাপণ্ডিত। এঁকে সাহায্য করা রাজধর্ম। কিন্তু অযাচিত সাহায্য এঁকে প্রসন্ন করবে কি না, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে এটুকু তিনি বুঝতে পারছেন, এই ব্যক্তির সঙ্গে কিঞ্চিৎ সাবধানে কথা বলা দরকার। 
সামান্য দ্বিধার পর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মহাশয়ের কিছু অনুপপত্তি আছে?’ 
রামনাথ স্পষ্টতই চিন্তায় পড়লেন। এমনিতে অনুপপত্তি শব্দের অর্থ অভাব। কিন্তু ন্যায়শাস্ত্রে ‘অনুপপত্তি’ শব্দের অর্থ সেই সমস্যা— যার কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। এমন কোনো অনুপপত্তি রামনাথের নেই। সুতরাং রামনাথ উত্তর দিলেন, ‘না মহারাজ, তেমন কিছু তো নেই!’ 
কৃষ্ণচন্দ্র বুঝতে পারলেন, এই পণ্ডিত তাঁর কথার অর্থ ধরতে পারছেন না। তাই আরও স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার কোনো অসংগতি আছে পণ্ডিতমশাই?’ 
রামনাথ আবার মুশকিলে পড়লেন। ন্যায়শাস্ত্র অনুযায়ী ‘অসংগতি’ শব্দের অর্থ অসমন্বয়। কাজেই আবার তিনি দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে অস্বীকার করলেন। সবই তিনি সমন্বয় করতে পেরেছেন। 
এই সংগতিবিহীন মানুষটিকে কীভাবে যে আর্থিক অভাবের বিষয়টি বোঝানো যায়, তা কৃষ্ণচন্দ্রের মাথায় এল না। শেষ চেষ্টা হিসেবে সোজাসুজি তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সাংসারিক বিষয়ে কি আপনার কোনো অনটন বা অভাব রয়েছে?’ 
এইবার অবশ্য রামনাথ অকূলে কূল পেলেন। হাসিমুখে বললেন, ‘আজ্ঞে না মহারাজ। কোনো অনটন নেই। কয়েক বিঘে ধানি জমি আছে আমার। তাতেই যথেষ্ট ধান হয়। আর সামনের এই যে তেঁতুলগাছ দেখছেন, এর পাতা দিয়ে ব্রাহ্মণী চমৎকার ঝোল রান্না করেন। তাই দিয়েই দিব্যি ভাত খেয়ে নিই। শিষ্যরাও তা-ই খায়। অভাব থাকতে যাবে কেন?’ 
সেদিন ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছিলেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র। দরিদ্র পণ্ডিতকে সাহায্য করতে 
পারেননি তিনি। 
শুধু ফেরার সময় হরিরাম মনে মনে বলেছিলেন, যতই ভারতবিখ্যাত পণ্ডিত হন, সাধে কি আর এঁর নাম হয়েছে ‘বুনো রামনাথ’? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ