মানুষের স্বপ্নের কোনো সীমা-পরিসীমা থাকে না। কেউ আকাশে পাখির মতো উড়তে চায়, কারও স্বপ্ন আবার গভীর সমুদ্রের রহস্য ভেদ করা! এমনই এক অদম্য স্বপ্ন লালন করেছিলেন এক মার্কিন অভিযাত্রী। তাঁর নাম কেন্ট কাউচ। ছোটোবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল, একদিন তিনি আকাশে ভেসে দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়াবেন।
এই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি একবার নয়, দু’বার চেষ্টা করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বেলুনে ভর করে অ্যারিজোনার বিস্তীর্ণ মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আইডাহো অঙ্গরাজ্যে পৌঁছানো। কিন্তু দু’বারই তাকে হতাশ হতে হয়েছিল। প্রথমবার খারাপ আবহাওয়া বাধ সাধে। আর দ্বিতীয়বার বেলুনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঝপথেই থামতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি কেন্ট। তৃতীয়বারের জন্য আবার শুরু করেন তার দুঃসাহসিক অভিযান। এবার প্রস্তুতিও ছিল আগের চেয়ে অনেক বেশি পোক্ত। সঙ্গে নেন দেড়শোর বেশি বেলুন, বেলুন ফোলানোর সরঞ্জাম ও একটি এয়ারগান। তাঁর কৌশল ছিল চমৎকার। যদি কোনো বেলুন ফেটে যায়, সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেলুন যুক্ত করবেন। আবার অতিরিক্ত উচ্চতায় উঠে গেলে এয়ারগান দিয়ে কিছু বেলুন ফাটিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখবেন। অসংখ্য বেলুনের সঙ্গে একটি হাতলওয়ালা চেয়ার বেঁধে, সেই চেয়ারে বসেই তিনি শুরু করেন তাঁর আকাশযাত্রা। অবশেষে প্রায় ২৩৫ মাইল অর্থাৎ ৩৭৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৯ ঘণ্টার এক অবিশ্বাস্য যাত্রা সম্পন্ন করেন তিনি। যখন তিনি আইডাহোর কেমব্রিজের কাছে অবতরণ করেন, তখন স্থানীয় মানুষজন উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ আর বিস্ময়ে ভরা। এত বড়ো একটি অভিযানের খরচ নিয়েও অনেকে অবাক হতে পারেন। কেন্ট নিজেই জানিয়েছেন, বেলুন, চেয়ার, এয়ারগান ও অন্যান্য সরঞ্জাম মিলিয়ে তার মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৬ হাজার মার্কিন ডলার। আর পুরো ৯ ঘণ্টার যাত্রায় তিনি খেয়েছেন কয়েকটি ডিম আর কিছু চকলেট! অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সাহস থাকলে অসম্ভবকেও যে সম্ভব করা যায় কেন্টের এই গল্প তারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।