মহুয়া সমাদ্দার: করে কমেন্টটা ঢুকতেই বুকের ভেতরে রক্ত ছলকে উঠল শর্মির। এক ভদ্রলোক, নাম অখিলেশ জানা লিখেছেন, ‘কী লিখেছেন ম্যাডাম! এমন লেখা আপনার দ্বারাই সম্ভব।’
মহুয়া সমাদ্দার: করে কমেন্টটা ঢুকতেই বুকের ভেতরে রক্ত ছলকে উঠল শর্মির। এক ভদ্রলোক, নাম অখিলেশ জানা লিখেছেন, ‘কী লিখেছেন ম্যাডাম! এমন লেখা আপনার দ্বারাই সম্ভব।’
মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ‘সুনীল আমি’ নামাঙ্কিত ব্যক্তি লিখলেন, ‘অনেক দিন পরে এত ভালো একটা গল্প পড়লাম।’
শর্মি ফোনটা টেবিলে রেখে ঢকঢক করে কিছুটা জল খেল। সে সত্যিই এতটা আশা করেনি। গল্পটা সে লিখেছে মাস সাতেক আগে। এক বৃষ্টির রাতে। সেদিন তার মন মেজাজ খুব ভালো ছিল। সন্ধ্যায় স্বামী অভীকের পদোন্নতির জন্য রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়াদাওয়া এবং তার প্রিয় জুয়েলারি শপ থেকে দুর্দান্ত একটা কানের দুল বরের কাছ থেকে উপহার স্বরূপ পাওয়া। সেদিন রাতেই গল্পটা টাইপ করে ফেসবুকে পোস্ট করতে গিয়েও আবার কী মনে হওয়াতে তা না করে কোনো প্রিন্টেড ম্যাগাজিনে পাঠাবে বলে মনস্থির করেছিল। পরদিনই লেখাটা প্রিন্ট আউট করে অভীকের হাতে পোস্ট অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছিল ‘শব্দের জাদু’ পত্রিকার জন্য।
শর্মি তারপরে আরও অনেক গল্প লিখেছে এবং ফেসবুকে পোস্ট করেছে। তার বর্তমানে হাজার পঞ্চাশেক ফলোয়ার্স রয়েছে। এ জন্য সে বেশ বাহবা কুড়ায় পরিবার পরিজনদের কাছ থেকে। যে কোনো লেখা ফেসবুকে পড়তে না পড়তেই এত্ত এত্ত লাইক কমেন্টের বন্যা বইতে থাকে। ফলে প্রিন্টেড ম্যাগাজিনে আর লেখা দিতে ইচ্ছা করে না শর্মির। তার এমনিতেই ধৈর্য বড়ো কম। একটা লেখা লিখে মাসের পর মাস ভগবানের নামে ফেলে রাখা তার পোষায় না! যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার লাইক কমেন্টে সহজেই ভরে যায়! তার এত ফ্যান ফলোয়ার্স না থাকলে হয়তো ছাপার জগতে পাঠানোর কথা ভেবে দেখত সে।
মাঝে ছ-সাত মাস সময় কোথা থেকে জানি চলে গিয়েছে। মাঝে কয়েকবার মনে হয়েছিল— ধুর! আর অপেক্ষা করে কাজ নেই। দিয়ে দিই ফেসবুকে।
তারপরেই আবার নিজের অদম্য ইচ্ছেকে চাপা দিয়ে রেখেছে কোনোক্রমে। ভাগ্যিস রেখেছিল! আর তাই তো গত পরশুই মেলে গল্পটি নির্বাচিত হওয়ার এবং এই সংখ্যায় প্রকাশিত হওয়ার খবরটা জানতে পারল সে।
এতদিন লেখার পরে ইনস্ট্যান্ট আনন্দ পেয়েছে। লোকের বাহবাও কুড়িয়েছে । কিন্তু আজকের অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। এই আনন্দে, এই অনুভূতিতে এক প্রচ্ছন্ন জিতে যাওয়া রয়েছে। এত দিন পেছনে অনেকেই তাকে ‘ফেবু-লেখক’ বলে আখ্যায়িত করত। এবারে তাদের মুখ বন্ধ হবে। এবার থেকে সমালোচকরা তাকে ফেবু-লেখক না বলে শুধু ‘লেখক’ বলতে বাধ্য হবে। এ কী কিছু কম প্রাপ্তি নাকি! পরশু থেকেই শর্মির রক্ত টগবগ করে ফুটছিল এটা ভেবে যে লেখাটা প্রকাশ পাওয়ার পরে পাঠককুলের রি-অ্যাকশন না জানি কেমন হবে। আজ সকালে সে একটা ছোট্ট পোস্ট করল এই লিখে— ‘‘আজ বিখ্যাত বাংলা পাক্ষিক পত্রিকা ‘শব্দের জাদু’তে আমার একটা গল্প ‘ভালোবাসার ঘর’ প্রকাশিত হয়েছে। কেমন লাগল অবশ্যই জানাবেন।’’
ব্যস। তারপর থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে লাইক, কমেন্ট পড়েই চলেছে। শর্মি থাকে মফস্সলে। তাই সকালেই সে পত্রিকাটা হাতে পায়নি। আর ‘শব্দের জাদু’-র কোনো ফেসবুক পেজ নেই। তাই প্রচ্ছদের বা তার গল্পের অলংকরণের ছবি সে পোস্ট করতে পারেনি। তবে ফেসবুকে যারা ‘দারুণ গল্প’ টাইপের কমেন্ট করেছে, তাদের প্রায় প্রত্যেকের কাছেই মেসেঞ্জারে শর্মি অনুরোধ জানিয়েছে তার গল্পের অলংকরণের ছবিটা পাঠাতে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউই সেই অনুরোধের উত্তর দেয়নি। সবাই অফিস-কাছারিতে রয়েছে বলেই হয়তো কেউ আর তার অনুরোধের উত্তর দেওয়ার সময় করে উঠতে পারেনি।
শর্মি আবারও পেপার দিতে আসা ছেলেটি অর্থাৎ বিজনকে ফোন করল।
—এই ভাই, ‘শব্দের জাদু’ পেয়েছ?
ওপাশ থেকে উত্তর এল, ‘এখনও পাইনি দিদি। পেলেই আপনাকে দিয়ে আসব।’
শর্মির এই আশ্বাসেও মন ভরছে না যেন। সে আবারও বলল, ‘আর কতক্ষণ লাগবে ভাই?’
প্রশ্নটা করে নিজেরই খারাপ লাগছে। বিজন ছেলেটি ভীষণই দায়িত্ববান ও ভদ্র। যতই ঝড়বৃষ্টি হোক না কেন, তার পেপার দিতে এক চুলও দেরি হয় না। ঠিক সময়ে সে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয় খবর। দেশের খবর। দশের খবর। ভালোর খবর। মন্দের খবর। আর সেই ছেলে যখন জানে যে তার এক কাস্টমার ‘শব্দের জাদু’ বইটা হাতে পাওয়ার জন্য হা-পিত্যেশ করে বসে রয়েছে, সে কি বইটা হাতে পেয়েও তাকে না দিয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারবে? বোধহয় না।
আবারও ফেসবুকে চোখ রাখল শর্মি। যতক্ষণ তার লেখাকে ‘শব্দের জাদু’-র মতো পত্রিকায় দেখতে পাচ্ছে, ততক্ষণ সে শান্তিই পাচ্ছে না। কিন্তু ততক্ষণ তো ফেসবুক দেখেই, পাঠকের ভালো লাগার খবর জেনেই খুশি থাকতে হবে। অগত্যা সে ফেসবুকেই মন দিল। একজন লিখেছে, ‘অনেক শুভেচ্ছা দিদি। বইটা হাতে এখনও পাইনি। পেলেই পড়ে জানাব।’
এরকম কথা আরও অনেকজনই লিখেছে। শর্মি এবারে নামগুলো ভালোভাবে লক্ষ করে দেখল। এরা প্রত্যেকেই তার লেখার মুগ্ধ পাঠক। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তার লেখার গঠনমূলক সমালোচনাও করেন মাঝেমধ্যেই। তবে সেইসব সমালোচকদের প্রায় সকলেই লিখেছেন, ‘এখনও হাতে পাইনি।’ আবারও বেশ কিছু কমেন্ট এসেছে। সব ক’টাতেই প্রায় একই কথা লেখা। ‘দারুণ হয়েছে।’ কিংবা ‘অসাধারণ লিখেছেন ম্যাডাম।’
কমেন্টগুলো যতই পড়ছে ততই পত্রিকাটা ছুঁয়ে দেখার জন্যে, তার গল্পের শব্দগুলোকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরবার জন্যে মন উত্তরোত্তর ব্যাকুল হয়ে উঠছে।
এই অপেক্ষা তার অসহ্য লাগছে। স্বামী অভীক এখন অফিসে। গাড়িটাও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছে। শর্মির হাত কামড়াতে ইচ্ছে করছে। ইস! কত বড়ো নির্বুদ্ধিতার কাজ করেছে সে! অভীকের সঙ্গে একই গাড়িতে সে দিব্যি শহরে চলে যেতে পারত। তারপরে না হয় যে কোনো গাড়ি ভাড়া করে ফিরে আসত। তাহলে সকালেই পত্রিকা তার হাতে চলে আসত। কিন্তু এখন তো আর সে উপায়ও নেই। দোকানদারেরা সবাই এখন ঝাঁপ ফেলে বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছে। আবারও দোকান খুলবে সেই সন্ধ্যায়। তখন আর শহরে গিয়ে লাভই কী!
ফেসবুক থেকে চোখ সরিয়ে অভীকের নাম্বার ডায়াল করল শর্মি। অভীককে একবার অনুরোধ করে দেখলে হয় না! ও যদি আজ অফিস শেষের আগেই বেরিয়ে পড়ে? যদি তার একান্ত কাম্য ম্যাগাজিন হাতে নিয়ে এসে তাকে বলে, এই নাও শর্মি। এই তোমার প্রথম গল্প বের হওয়া ম্যাগাজিন। নাও। প্রাণ ভরে দেখ অভীকের ফোন রিং হয়ে হয়ে কেটে যাচ্ছে। অভীক ফোন ধরছে না কেন? ও কি বুঝতে পারছে না কতটা অসহায় হয়ে ওর প্রিয়তমা বউ ফোন করেছে? উফ! ডিসগাস্টিং! আজ এত আনন্দের দিনটাই কেন যে এত কষ্টের, তা কে জানে! এসবের জন্যে একমাত্র দায়ী সে নিজে। পরশুদিন থেকে আজ পর্যন্ত— মাঝে দু’দিন সময় চলে গিয়েছে। এরমধ্যে ম্যাগাজিনটা পাওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থাই করতে পারেনি সে। অভীককে ফোন করতে করতেই শর্মি দেখল বিজনের ফোন ঢুকছে। সে তৎক্ষণাৎ অভীকের ফোন কেটে দিল। কিন্তু সে রিসিভ করার আগেই কেটে গেল ফোনটা। বিজন ফোন করেছে কেন? কী বলবে ও? বলবে নাকি যে, সরি বউদি। আজ আর ম্যাগাজিন আসবে না। আমি জানিয়ে রেখেছি। কাল সকালে পেপারের সঙ্গেই দিয়ে দেব ম্যাগাজিন। শর্মির বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে।
সে এবার বিজনকে ফোনে ধরার চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ নট রিচেবল বলার পরে অবশেষে ফোন ঢুকল। বিজন ধরেই বলল, ‘বউদি, গুড নিউজ। আপনার বইটা এই এক্ষুনি হাতে পেলাম। আর মিনিট পনেরোর মধ্যেই আপনার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি।’
বুকের ভেতর থেকে একটা বড়ো পাথর সরে গেল যেন! তার মানে আর একটু পরেই আসবে সেই শুভক্ষণ। বিজন তাকে ‘শব্দের জাদু’ দিয়ে যাবে! শর্মি ছুঁয়ে দেখবে ছাপার হরফে তার সৃষ্টিকে। প্রথম যেকোনো কিছুর স্পর্শেরই একটা আলাদা জাদু থাকে। এরপর হয়তো অনেক নামীদামি পত্রিকায় তার লেখা বের হবে। ‘শব্দের জাদু’ও হয়তো আবারও ছাপবে। কিন্তু এই অনুভূতি সে আর কোনো দিনও পাবে না।
....
কলিং বেলের আওয়াজ হওয়ার আগেই দরজা খুলে দিল শর্মি। বিজন ফোন করার পর থেকে ব্যালকনিতেই দাঁড়িয়েছিল। বিজনকে ওপরে উঠতে দেখেই সে দরজা খুলে দিয়েছে। বিজন কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল বোধহয়। কিন্তু শর্মি এখন কিছুই শোনার অবস্থাতেই নেই। সে বিজনের হাত থেকে বইটা নিয়েই নিজের বেডরুমে চলে গেল।
একটার পর একটা পাতা ওলটাচ্ছে শর্মি। প্রথমে অন্য একজন লেখকের গল্প। তারপরেও তাই। তারপরেও...।
শর্মির এবারে ভীষণ অস্থির লাগছে। যাহ! তার গল্পটা কোথায় গেল? তার গল্পের নায়িকা সায়ন্তিকা কই? তার গল্পের কেমন অলংকরণ করা হয়েছে? এসব জানার জন্য শর্মির মনটা এত ছটফট করছে, অথচ সে তার গল্পটাই খুঁজে পাচ্ছে না। নাহ! একেবারেই পাচ্ছে না। এবারে সে একটা একটা করে পাতা ওলটাতে শুরু করল। তাও সে অন্য সব গল্প পেলেও তার নিজেরটাই পেল না। হঠাৎ শর্মির সূচিপত্রর কথা মনে পড়ল। ঠিকই তো! সূচিপত্র দেখলেই তো ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে! কত নম্বর পৃষ্ঠায় তার গল্প? বেশ কিছুক্ষণ ধরে দেখেও সূচিতে শর্মি মিত্র নামটা চোখে পড়ল না তার। তাহলে? তাকে যে মেল করে বলা হয়েছে এই সংখ্যায় তার গল্পটা থাকছে? তাছাড়া ফেসবুকে তো বহুজন লিখেছে তার গল্প সম্পর্কে! বহুজনের তার গল্পটার ভালো লেগেছে! তারপরেও গল্পটা গেল কোথায়?
শর্মি দ্রুত হাতে তার মেল সেকশনটা খুলে ফেলল। তারপর— হ্যাঁ। এই তো সেই মেল! সে তৎক্ষণাৎ পড়তে শুরু করল মেলটা। কিন্তু এ কী! কী লেখা রয়েছে এটা! এখানে লেখা রয়েছে “আপনার ‘ভালোবাসার ঘর’ গল্পটি মনোনীত হয়েছে। জুন সংখ্যায় অথবা তারপরের সংখ্যায় গল্পটি থাকবে আশা করা যায়।’’
হায় ঈশ্বর! লেখা মনোনীত হওয়ার আনন্দে উত্তেজনায় পুরো মেসেজটা ভালো করে পড়েইনি সে। ছিঃ ছিঃ। তার এই ধৈর্যহীনতার জন্য ফেসবুকে এই সংখ্যায় গল্প বের হওয়ার কথা নির্দ্বিধায় পোস্ট করেছে সে। তার একবারও মনে পড়েনি এমনটা না হতেও পারে। বিষম লজ্জায় তার নিজের ওপরই রাগ হচ্ছে। এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতির জন্য আর কেউ নয়, দায়ী শুধু সে নিজেই। সে ফেসবুক খুলল দ্রুত হাতে। পোস্টটা ডিলিট করতে যেতেই আরও একবার কমেন্ট সেকশনে ঢুকল শর্মি। মিনিট খানেক আগেও একজন কমেন্ট করেছে— ‘এটা তোমার সেরা লেখা দিদি। লেখা চালিয়ে যাও। পাশে আছি সবসময়।’
শর্মি থমকাল। তার বন্ধুবৃত্তে যারা রয়েছে তারা সব কারা? যে গল্প প্রকাশিতই হয়নি, তার নামে বেশিরভাগ লোকই লিখে দিয়ে যাচ্ছে— অসাধারণ! দুর্দান্ত!
এবারে শর্মির মাথা ঝিমঝিম করছে। তারমানে এতদিন সে যত লেখা পোস্ট করেছে তার মধ্যে বেশিরভাগ লেখাই মানুষজন না পড়েই মন্তব্য করে গিয়েছে! বলেছে— ‘তোমার কলম আমাদেরকে স্তব্ধ করে দেয় শর্মি!’
এগুলো সব মিথ্যা? সব ভুল? রাগে, দুঃখে দিশেহারা শর্মির ইচ্ছে হল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাকটিভেট করে দিতে। যা শুধুই মিথ্যেতে ভরা, যা শুধুই অন্ধকার, তাকে জীবন থেকে ছেঁটে ফেলতে এতটুকুও দ্বিধা করবে না সে। কিন্তু তখনই কয়েকটা পোস্টে সে আবারও থমকে গেল। এই যে একেকজন কত সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন তার গল্পের? সেগুলো? সেসব তো আর মিথ্যা হতে পারে না? না পড়লে কেউ এভাবে লাইন বাই লাইনের বিশ্লেষণ করতে পারে? সেটা কখনোই সম্ভব নয়। অন্ধকারের মাঝে যে আলোটুকু আছে সেইটুকুকেই আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করল শর্মি। এই আলোটুকুর জন্যই তো অনেকটা আঁধার পেরিয়ে আসা যায়! এই আলোটুকুই থাক তার জীবনে সত্যি হয়ে। বাকি সব কিছু মিথ্যে হয়ে যাক!