নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওঁদের কেন কানে দুল, ওঁদের কেন বড়ো চুল? ওঁরা সব ‘দেশদ্রোহী’, সবকটা ‘দিমাগি নকশাল’! রবিবার সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়াদের উদ্দেশে এমনই বাছা বাছা শব্দবন্ধ উড়ে এল। পড়ুয়াদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ল বিজেপি-আরএসএস কর্মীরা। ফলে আরও একবার উসকে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার স্মৃতি। ক্যাম্পাসের ভিতরে বিআর আম্বেদকর ও জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রইলেন পড়ুয়ারা, আর বাইরে অসংখ্য পুলিশ ও বিজেপি-আরএসএসের কর্মী-সমথর্করা।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুপুরে। জানা গিয়েছে, ক্যাম্পাসে আরএসএসের শাখা সংগঠন অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েতের (এবিজিপি) একটি অনুষ্ঠান ছিল। তারা অনুমতি নিয়েই অনুষ্ঠান করছিল। কিন্তু ছাত্র সংসদ এ বিষয়ে কিছুই জানত না। ছাত্র সংসদের দাবি, বেলা ২টো নাগাদ এসআরএফটিআই’র ছাত্ররা মেন থিয়েটারের সামনে অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদে পোস্টার লাগাতে যায়। ছাত্ররা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তখনই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা তাঁদের আক্রমণ করে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের ‘দেশদ্রোহী’, ‘ককরোচ’ বলে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, তাঁদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কর্মী-সমর্থকদের বাস-গাড়ি বলপূর্বক ক্যাম্পাসের ভিতরে আটকে রাখেন পড়ুয়ারা। সেখানে মহিলারাও ছিলেন। এবিজিপির লোকজন ভিতরে আটকে পড়লে ক্যাম্পাসের বাইরে জাতীয় পতাকা নিয়ে হাজির হন তাদের কর্মীরা। প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা এবিজিপির লোকজনকে আটকে রাখার অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দু’পক্ষকে সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। একটা সময় ক্যাম্পাসের গেট টপকে পুলিশ ভিতরে যায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে। তারপর গাড়িগুলি ছাড়া হয়। উত্তেজনা তাতেও থামেনি। ক্যাম্পাসের ভিতর-বাইরে শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। পুলিশের সামনে এক পড়ুয়াকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর দুপুরে আক্রান্ত হওয়া পড়ুয়াদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বেরনোর সময়, গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির রাজ্য নেতৃত্ব। সিজেপি নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়ও সেখানে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। পড়ুয়ারা রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘আতঙ্কে রয়েছি। তিনজন গুরুতর আহত। হাসপাতালে ভরতি। পুলিশের কাছে গোটা ঘটনা লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। আমরা চাই, এফআইআর দায়ের করা হোক।’
এসআরএফটিআইয়ের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি আরও একবার উত্তপ্ত হয়েছে। এবিভিপি নেতা শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘এসআরএফটিআইয়ের অনভিপ্রেত ঘটনার সঙ্গে এবিভিপি যুক্ত নয়। যাঁরা দোষী, পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘যাদবপুর, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মেদিনীপুর— একটার পর একটা ক্যাম্পাসে আরএসএস যেভাবে আক্রমণ চালিয়েছে, তারই পুনরাবৃত্তি এবার এসআরএফটিআইতে।’ গোটা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার ছাত্ররা। অনুরাগ কাশ্যপ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, বাংলায় এই জন্যই তারা ভোট চুরি করেছিল।