রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ১৯৭১ সাল থেকে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনে প্রার্থী দিয়ে আসছিল বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি। ৫৫ বছর পর এবার সেই ট্র্যাডিশন ভেঙে গেল। আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনে এবছর ফ্রন্টের প্রার্থী সিপিএমের শ্যামল রায়। দীর্ঘবছর পর নিজেদের দলের প্রার্থী হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
একুশে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা আসনে প্রার্থী ছিলেন জোটপ্রার্থী কংগ্রেসের দেবপ্রসাদ রায়। অভিযোগ, বামেদের ভোট রামের বাক্সে চলে যাওয়ায় হেরে যান দেবপ্রসাদ রায়। এদিকে, আলিপুরদুয়ার আসন নিয়ে শরিক আরএসপির সঙ্গেও সিপিএমের দীর্ঘদিনের আকচাআকচি। সেই জন্য ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী সৌরভ চক্রবর্তীর জয় সহজ হয়। এবার নিজেদের দলের প্রার্থী হওয়ায় রামের দিকে চলে যাওয়া ভোট ফের বামে ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর সেটা হলে সুবিধা হবে তৃণমূলের। যদিও বিজেপি বা কংগ্রেস সেটা মানতে রাজি নয়। সিপিএমের আবার দাবি, তৃণমূল ও বিজেপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানুষ এই দুই দলের উপরেই ক্ষুব্ধ।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলেরই ভোট এবার পাবে আমাদের প্রার্থী শ্যামল রায়। আলিপুরদুয়ার আসনে আমাদের ভোট বাড়ছেই। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি রাজু ঘোষ বলেন, রাজ্যে সিপিএমের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাম সমর্থকরা জানে তৃণমূলকে উৎখাত করতে হলে ভোট নষ্ট করে লাভ নেই। ফলে বাম সমর্থকদের ভোট এবারও আমরাই পাব।
একুশের ভোটে আলিপুরদুয়ারে বিজেপি ৪৮.০৬ ও তৃণমূল পেয়েছিল ৪১.০৪ শতাংশ ভোট। আর বামেদের সংযুক্ত মোর্চা ভোট পেয়েছিল ০৭.০১ শতাংশ। অর্থাৎ বামেদের ভোট রামের বাক্সে চলে যাওয়ায় লাভবান হয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাই সিপিএমের প্রার্থী হওয়ায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে এবার আলিপুরদুয়ার আসনে রামের যাওয়া ভোট ফের বামের বাক্সে ফিরবে। আর সেটা হলে লাভের ফসল ঘরে তুলবে তৃণমূল।
তৃণমূলের টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা আশাবাদী রামে চলে যাওয়া বামেদের ভোট এবার তাদের দলের দিকেই ফিরবে। তাতে আমরাই লাভবান হব। জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবেশ তালুকদার বলেন, বামেরা কাকে ভোট দেয় বা ভোট দেবে বলতে পারব না। তবে কংগ্রেসের ভোট আমাদের প্রার্থীর হয়েই পড়বে।