Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া ব্রিজে ওঠার রাস্তা গর্তে ভরা, কংক্রিট ব্লকে হাল আরও ‘ভয়ানক’

প্রতিদিন কমপক্ষে এক লক্ষ গাড়ি চলাচল করে হাওড়া ব্রিজের উপর দিয়ে

হাওড়া ব্রিজে ওঠার রাস্তা গর্তে ভরা, কংক্রিট ব্লকে হাল আরও ‘ভয়ানক’
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিদিন কমপক্ষে এক লক্ষ গাড়ি চলাচল করে হাওড়া ব্রিজের উপর দিয়ে। আর প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষ পথচারীর ভার বহন করে এই ঐতিহ্যবাহী সেতু। যা হাওড়া থেকে কলকাতায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু হাওড়ার দিক থেকে ব্রিজে ওঠার মুখে হোঁচট খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীদের। কারণ, ওই অংশটি পুরোটাই খানাখন্দে ভর্তি। যার জেরে প্রতিদিন, বিশেষত অফিস টাইমে, ব্যাপক যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গাড়ির লম্বা লাইন চলে যাচ্ছে হাওড়া ব্রিজের মুখ থেকে একেবারে বঙ্কিম সেতুর সংযোগস্থল পর্যন্ত। কখনও তা গুলমোহরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে কোনও গাড়ির হাওড়া ব্রিজে উঠতেই লেগে যাচ্ছে কুড়ি মিনিট থেকে আধ ঘণ্টা। কেন এই যানজট, তা বোঝা যাবে ব্রিজের মুখ পৌঁছলে। সেখানে খানাখন্দের জেরে থমকে যাচ্ছে গাড়ির গতি। তারপর ঢিমেতালে খন্দ পেরচ্ছে গাড়িগুলি। যেকারণেই যানজটের কবলে পড়ছে আম জনতা। অদ্ভুতভাবে রাস্তার ওই অংশ পেরলেই যানজট মুক্ত হাওড়া ব্রিজ ধরে অনায়াসে চলে যাওয়া যাচ্ছে কলকাতায়।

Advertisement

হাওড়া বাস ডিপো থেকে বেরনো কলকাতাগামী সমস্ত বাস যায় এই রাস্তা ধরেই। ফলে রাস্তার একটি দিক থাকে সরকারি ও বেসরকারি বাসের দখলে। খানাখন্দে ভরা রাস্তার বাকি অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে বাকি গাড়ি, ট্যাক্সি, বাইক, স্কুটার। ব্রিজে ওঠার এই অংশ বাইক চালকদের জন্য মরণফাঁদ। একটু ভারসাম্য হারালেই যে কোনও সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে একথা বললেন ই-বাইকের চালক অনিমেষ পাল।
গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশও। এক পদস্থ পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগে দ্রুত রাস্তা মেরামতির কথা জানিয়ে তারা চিঠি দিয়েছে কেএমডিএকে। তারা আশাবাদী যে, দ্রুত সেই কাজ সম্পূর্ণ হবে। কেএমডিএ সূত্রে খবর, হাওড়া ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোড মেরামতির দায়িত্ব আসলে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের। হাওড়া ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।
মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই কাজে হাত দিয়েছে কেএমডিএ। তাদের বক্তব্য, হাওড়া ব্রিজে ওঠার মুখে রাস্তার এই অংশটি ঘনঘন খানাখন্দে ভরে ওঠে। এবারের ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ওই অংশে কোনও ভাবেই পিচের রাস্তা টেকসই হচ্ছে না। সেকারণেই পুজোর আগেই কিছুটা জায়গায় কংক্রিটের ব্লক পেতে দেওয়া হয়েছিল। যার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু, অনেকটা কাজ এখনও বাকি। যার জন্য আরও ১২ লক্ষ টাকার কাজের প্রস্তাব গিয়েছে কেএমডিএ’র সদর দপ্তরে। প্রস্তাব পাশ হলেই কাজ হবে। কিন্তু, ইতস্ততভাবে কিছুটা জায়গায় কংক্রিট ব্লক বসানোর কারণে পরিস্থিতি আরও ‘ভয়ানক’ হয়ে উঠেছে। কারণ, জায়গায় জায়গায় উঠে থাকা কংক্রিটের ব্লকে বাইকের চাকা পড়লেই স্কিড করে তা গিয়ে পড়ছে খানাখন্দে জমে থাকা জলে। অর্থাৎ, মাথায় হেলমেট না থাকলে বাইক চালকদের অবধারিত মৃত্যুর কারণ হতে পারে ওই কংক্রিটের ব্লক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ