সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জোত শিবরামপুর গালর্স হাইস্কুলে ঢোকার রাস্তা এবং সংলগ্ন বীরেন রায় রোডের (পশ্চিম) অবস্থা বেহাল। রাস্তা কার্যত জলাশয়ের চেহারা নিয়েছে। যেখানে যেখানে জমা জল নেমেছে, সেখানে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তার কঙ্কাল। ফলে স্কুলের ছাত্রীদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় বিস্তর ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। জমা জলে পড়ে গিয়ে পড়ুয়াদের কারও কারও হাতে-পায়ে জোরালো আঘাত পর্যন্ত লেগেছে। প্রসঙ্গত, বীরেন রায় রোডের চৌরাস্তা থেকে জোত শিবরামপুরের দিকে যেতে গেলে পড়ে কলকাতা পুরসভার ১২৭ নম্বর ওয়ার্ড, যা কলকাতা পুলিসের আওতাভুক্ত। ডান দিকের অংশ মহেশতলা পুরসভার । দু’দিকের পড়ুয়াদেরই এই বেহাল রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে আসতে হয়। দিনের পর দিন চলা এই দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবার পথে নামল স্কুলের ছাত্রীরাই। এদিন স্কুল ইউনিফর্মে ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে কয়েকশো পড়ুয়া। তাদের সঙ্গে শামিল হন স্কুলের টিচার ইনচার্জ সহ শিক্ষিকারা। সবাই মিলে বীরেন রায় রোড (পশ্চিম) অবরোধ করেন। বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে স্লোগান দেয় ছাত্রীরা। বেলা ১১ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত অবরোধের জেরে বীরেন রায় রোডের জোত শিবরামপুর থেকে ডাকঘর মহেশতলা এবং উল্টোদিকে বেহালা চৌরাস্তার দিকে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। কলকাতা পুলিসের সরশুনা থানা এবং মহেশতলা থানার জিনজিরা ফাঁড়ি থেকে সিনিয়র পুলিস আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসেন। রাস্তার এই দশার কারণ পড়ুয়া সহ তাঁদের কী ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে, তা পুলিসকর্তাদের বিস্তারিত তুলে ধরেন টিচার ইনচার্জ। পুলিস আধিকারিকরা বিষয়টি নির্দিষ্ট বিভাগে জানানো এবং বিবেচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। টিচার ইনচার্জ সবিতাদেবী বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই এমন অবস্থা রাস্তার। মহেশতলা পুরসভাকে বলেছি। ওরা বলছে, এটা কেএমডিএ দেখে। পুরসভার দায়িত্ব নয়। বাধ্য হয়ে পড়ুয়ারা নিজেরাই এদিন অবরোধে নামে।’ স্থানীয় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মুকুল মণ্ডল বলেন, ‘ওই জায়গা দিয়ে জলের পাইপলাইন বসানোর জন্য দেড় মাস সময় লাগবে। তাই এখনই পিচ দেওয়া যাচ্ছে না।’ স্থানীয় যুব কংগ্রেস নেতা গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘মহেশতলা পুরসভার ১৩, ১৪ , ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সব রাস্তা বেহাল। পুর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র



