সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ব্লকের রাজাপুর থেকে গোমাঘর পর্যন্ত জেলা পরিষদের অধীনস্থ প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ বেহাল। রাস্তাটি প্রায় তিন বছর ধরে মেরামত হয়নি বলে অভিযোগ। রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায় তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও আবার পিচ উঠে পাথর বের হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে সাইকেল, বাইক, টোটো সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। রাজাপুর, গোমাঘর, সরডাঙা, নতুনগ্রাম, মোল্লাপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি এই রাস্তায় পিএইচই পাইপ লাইনের কাজ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গিয়েছে। ক্ষুব্ধ মায়াপুর-বামুনপুকুর–১নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা।
পাশাপাশি, মায়াপুর-বামুনপুকুর–১নম্বর পঞ্চায়েতের সরডাঙা, নতুন গ্রাম, মোল্লাপাড়া হয়ে মায়াপুর পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত জেলা পরিষদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার পরিস্থিতিও খারাপ। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গ্রামবাসীদের দাবি, পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদকে বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হচ্ছে না। রাজাপুরের ভিটেরমাঠ পাড়ার বাসিন্দা রেণু বিবি বলেন, আমার ছেলে এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। বাড়ি না ফেরা অবধি চিন্তায় থাকি। নবদ্বীপ ব্লক সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মিন্টু মণ্ডল বলেন, কিছুদিন আগে এই রাস্তায় বাইক নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে এক ব্যক্তির ডান হাত ভাঙে। এই এলাকায় মাদ্রাসা ও জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। তাই প্রচুর মানুষ আনাগোনা করেন। মায়াপুর-বামুনপুকুর–১নম্বর পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের আব্দুল মুন্নাফ আলি বলেন, জেলা পরিষদের কাছে আবেদন করব, যাতে দ্রুত রাস্তাটি সারানো হয়। প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি জানাব। সিপিএমের নবদ্বীপ পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা আয়েব নবি শেখ বলেন, মানুষের যাতায়াতের জন্য দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার। বৃষ্টি হলে রাজাপুর থেকে জগন্নাথ মন্দির যাওয়ার বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। জল নিকাশি ব্যবস্থাও নেই। অথচ প্রতিদিন বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। জেলা পরিষদের সদস্যা তৃণমূলের আরজুবানু খাতুন বলেন, বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। বর্ষার আগে যাতে দ্রুত রাস্তাটি সারানো হয়, সেবিষয়ে আবার বলব। -নিজস্ব চিত্র