নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম শহরের উড়ালপুল সংলগ্ন শিবমন্দির থেকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত রাস্তা চার লেনের হবে।তার জন্য রাস্তার ধারের বেআইনি দোকান উচ্ছেদ করতে হবে। তবে উচ্ছেদ হওয়া দোকানগুলির মালিকদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পূর্তদপ্তর। ঝাড়গ্রাম পূর্তদপ্তরের আধিকারিক প্রদীপকুমার বিশ্বাস বলেন, উড়ালপুল থেকে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত রাস্তা ফোরলেন করার পরিকল্পনা রয়েছে।যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।শিবমন্দির থেকে পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারের পুনর্বাসন দেওয়া হবে।
ঝাড়গ্রাম শহর ২১ বর্গ কিমিজুড়ে বিস্তৃত। শহরের মাঝখান দিয়ে ৫ নম্বর রাস্তা চলে গিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া,পশ্চিম মেদিনীপুর ও দুর্গাপুর যাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তারবামদিকের ফুটপাত দখল করে একাধিক দোকান রয়েছে। যারজেরে শহরবাসীকে নিত্য যানজটেভুগতে হয়।রাস্তাটির মাঝ বরাবর দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর-টাটানগর শাখার রেল লাইন রয়েছে। যাতায়াত মসৃণ করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১১ সালে শহরে উড়ালপুল তৈরি শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে উড়ালপুলে যান চলাচল শুরু হয়। কিন্তু তারপরেও শহরে যানজট কমেনি। ঝাড়গ্রাম পুরসভার তরফে ২০১৮ সালে উড়ালপুল থেকে পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত বাম দিকের রাস্তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পূর্তদপ্তর প্রথমে ভূমিদপ্তরকে ৬০ শতক জায়গা দেয়। সেই জায়গা পুরসভাকে হস্তান্তর করা হয়। দোকানদারদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই কাজ মাঝপথে থমকে যায়। যানযটের সমস্যা উত্তরোত্তর বাড়ায় জেলা পূর্তদপ্তর নতুন করে ssরাস্তাটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।উড়ালপুল থেকে হাসপাতালের মর্গ পর্যন্ত রাস্তাটি চার লেনের করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তা চওড়া করার জন্য রবীন্দ্র পার্ক সংলগ্ন ফেন্সিং ঘেরা জায়গা ও কোর্ট কম্পাউন্ড সংলগ্ন ১৫ ফুট জায়গা নেওয়া হবে। পুরসভাকে দেওয়া বাকি জায়গায় উড়ালপুলের শিবমন্দির থেকে পাঁচমাথা মোড় পর্যন্ত উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারের পুনর্বাসন দেওয়া হবে।যার প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। উড়ালপুলের দু’ পাশের রাস্তার কাজের প্রস্তুতিও চলছে।
মর্গ সংলগ্ন পূর্তদপ্তরের জায়গায় বসা হোটেলের মালিক স্বপনকুমার বিশুই বলেন, কুড়ি বছর ধরে এই জায়গায় আমরা ব্যবসা করছি। শিবমন্দির থেকে পাঁচমাথার মোড় পর্যন্ত দোকানদারদের পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কথা কেন ভাবা হচ্ছে না? আমাদেরও পুনর্বাসনদিতে হবে। শিবমন্দির সংলগ্ন কোর্ট রোডের কাপড়ের দোকানদার কার্তিক পাত্র বলেন, কোর্ট কম্পাউন্ডে গেলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। প্রশাসনের পুনর্বাসনের প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। শহরের নতুনডিহি এলাকার বাসিন্দা সোমনাথ দে বলেন,উড়ালপুল থেকে মর্গ পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তায় নিত্য যানযট হয়। অফিস টাইমে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসন রাস্তাটির সম্প্রসারণের নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ায়আমরা খুশি। নিজস্ব চিত্র