Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

এগুলো না খেলেই কমবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

হার্ট অ্যাটাক! কথাটা শুনলেই শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যায় ঠান্ডা স্রোত। কারণ একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে বয়সের একটা যোগ ছিল বলে মনে করা হতো

এগুলো না খেলেই কমবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!
  • ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

হার্ট অ্যাটাক! কথাটা শুনলেই শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যায় ঠান্ডা স্রোত। কারণ একটা সময় পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে বয়সের একটা যোগ ছিল বলে মনে করা হতো। অর্থাত্‍ বয়স ৬০ পেরলে তবেই সাধারণ মানুষ হার্ট অ্যাটাক নিয়ে চিন্তা করতেন। অথচ সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে ৩০ বছরের যুবকও হঠাত্‍ আক্রান্ত হচ্ছেন হার্ট অ্যাটাকে! চিকিত্‍সকরা বলছেন অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকে। তবে মূল নজরটা সম্ভবত দেওয়া প্রয়োজন জীবনশৈলী এবং খাদ্যাভ্যাসে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বারংবার সতর্ক করছেন যে,   আধুনিক গতিশীল জীবনযাত্রা এবং ব্যস্ততার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা এমন কিছু খাদ্য নিয়মিত গ্রহণ করছি, যে খাদ্য আসলে শরীরের বারোটা বাজাচ্ছে। ধীরে ধীরে হার্টকে করে তুলছে দুর্বল। আমরা জানি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মূল কারণই হল, হার্টের পেশিতে রক্ত এবং পুষ্টি উপাদান সরবরাহকারী করোনারি ধমনীতে প্লাক জমা ও সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া!

Advertisement

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরূপ দাসবিশ্বাস জানাচ্ছেন, জীবনশৈলীর পরিবর্তন করে অনেকাংশেই হার্টের সমস্যা দূরে রাখা যেতে পারে।

তাই প্রতিদিনের ডায়েটে কতকগুলি পরিবর্তন অবশ্যই আনুন। দেখা যাক সেগুলি কী কী।

১) প্রথমত রান্নায় নুনের মাত্রা কমাতেই হবে। কাঁচা নুন কোনওভাবেই খাওয়া যাবে না। মনে রাখবেন, সারাদিনে একজন ব্যক্তির ৫ গ্রাম নুন যথেষ্ট। এর বেশি মাত্রায় নুন খেলে তা ডেকে আনতে পারে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। উচ্চ রক্তচাপ থেকে হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেলিওরের আশঙ্কা বাড়ে। অতএব প্রাতঃরাশ, লাঞ্চ, বিকেলের টিফিন এবং ডিনারের জন্য বাড়ির যে রান্না হয় তাতে যেন মাথা পিছু ৫ গ্রামের বেশি নুন না থাকে। সমস্যা হল আমরা এই চারবেলার বাইরেও খাবার খাই। কেউ একটু চানাচুর খান, কেউ খান মশলা চিঁড়েভাজা, কেউ খান ঝুরিভাজা, চিপস। এমনকী এখন বাড়িতে বসেই অর্ডার দিলে পৌঁছে যাচ্ছে মোমো, নুডলস! এই ধরনের খাবারে স্বাদ বাড়াতে বাড়তি নুন যোগ করা হয়। এই ভাবে সারাদিনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নুন শরীরে ঢোকে অনেকেরই! নুনে থাকে সোডিয়াম। ফলে শরীরে বা়ড়ে সোডিয়ামের মাত্রা যা রক্তচাপ বাড়ায়। সুতরাং খাদ্যে নুনের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হতেই হবে।

২) হার্ট সুস্থ রাখতে কমাতে হবে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড আছে এমন খাদ্য। স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা বাড়ায়। রেড মিট, মাখন, ঘি, পনির, ফুল-ক্রিম দুধ, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং পাম অয়েলের মতো কিছু উদ্ভিজ্জ তেলে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এছাড়া হার্টের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড। একই তেল বারবার গরম করে খাবার ভাজলে বা তেলেভাজা খাবার বারবার গরম করলে তেলের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়। আজকাল চিপস বা প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা লেখা থাকে। কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন এতে ট্রান্স ফ্যাট ০ গ্রাম বা মোট চর্বির ১ শতাংশের কম আছে কি না। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় তেল ফুটলে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল বা অত্যন্ত ক্ষতিকর পদার্থ উৎপন্ন হয় যা শরীরের সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে। ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং ধমনির দেয়ালে প্রদাহ সৃষ্টি করে যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতএব যে কোনও ধরনের জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলুন। রান্নাতেও তেলের ব্যবহার কমান। একজন ব্যক্তির খাদ্য থেকে একমাসে ৫০০ মিলিলিটার তেল ব্যবহারই যথেষ্ট।

৩) রিফাইনড সুগার বা চিনি খাওয়া বন্ধ করুন। চিনি হলো সরল শর্করা যা দ্রুত রক্তে মিশে যায়। বিশেষ পুষ্টিগুণ নেই। ফাইবার একেবারেই থাকে না। একইভাবে এড়িয়ে চলুন ময়দার তৈরি যে কোনো খাদ্যবস্তু। ময়দা হলো পরিশোধিত শর্করা যার মধ্যে ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ প্রায় থাকে না। ফলে ময়দার তৈরি খাবার শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে। একই কারণে বাদ দিতে হবে রিফাইনড চালের ভাত খাওয়া, কারণ এতেও ফাইবারের মাত্রা খুবই কম থাকে। এই ধরনের পরিশোধিত শর্করা শরীরে প্রবেশের পর রক্তে খারাপ ধরনের চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

করবেন কী?

হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে জীবনযাত্রা ও খাদ্যভ্যাসের সংযোগ অবশ্যই রয়েছে। তবে আরও কয়েকটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। যেমন পরিবারে আগে কারও কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ইতিহাস আছে কি না। বংশে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ইতিহাস থাকলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। ৩০ বছর বয়সের পরে প্রতিবছর চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুসারে করাতে হবে ব্লাড টেস্ট। তাতে কোনও সমস্যা ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এছাড়া আজকাল বায়ুদূষণ, ক্রনিক স্ট্রেস, হঠাত্‍ মাত্রাতিরিক্ত এক্সারসাইজ হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তাই কিছু বিষয় রোজকার রুটিনে শামিল করুন।

কী খাবেন

∙ফাইবার বেশি আছে এমন খাদ্য খান। পাতে অবশ্যই শাকসব্জি বেশি রাখুন।  ∙ ওটস খান। খেতে পারেন কিনোয়া। ঢেঁকি ছাঁটা চাল খান। আটার রুটির সঙ্গে জোয়ার, বাজরা, রাগি মিশিয়ে খান। তাতে আটার রুটিতে ফাইবারের মাত্রা বাড়বে। ∙ ফল খান। কারণে ফলে আছে ফাইবার ও অ্যান্টঅক্সিডেন্ট যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ∙ চিকেন, মাছ, ডিম, ডাল খান। ∙ কুচনো পিঁয়াজ, শসা, টম্যাটো, গাজর, ধনেপাতা, লঙ্কা দিয়ে অঙ্কুরিত মুগ, ছোলা খেতে পারেন টিফিনে। খেতে পারেন ছোলার ছাতু, ওটস-এর খিচুড়ি, সব্জি বা চিকেনের স্যুপ। মোট কথা যাই খান স্বাস্থ্যকর খান, খাদ্যের স্বাস্থ্যগুণ মাথায় রেখে খান।

কী করবেন?

নিয়িমিত এক্সারসাইজ করুন। প্রতিদিন ৩৫-৪০ মিনিট হন হন করে ঘাম ঝরিয়ে হাঁটুন। নাহলে করতে পারেন জগিং, সাইক্লিং। সাঁতারও ভালো ব্যায়াম। ৪০ বছর বয়সের পরে নতুন করে জিম করতে হলে অবশ্যই একবার চিকিত্‍সকের পরামর্শ নিন।

লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ