সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরের নামের সঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ঐতিহ্যের এই শহরে শুরু হয়েছে গণপতির আরাধনা। আগে কিছু অল্প সংখ্যক নির্দিষ্ট পরিবার ও ক্লাবের মধ্যেই এই পুজো সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরে এখন সেই পুজো শহরজুড়ে সর্বজনীন উৎসবের আকার নিয়েছে। বর্তমানে ক্লাব, পাড়া ও বিভিন্ন দোকানেও গণপতির পুজো হয়ে থাকে। সেপ্টেম্বর পড়তেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চোখে পড়ছে বড়ো বড়ো গণেশ মণ্ডপ ও হোর্ডিং। থাকছে আলোকসজ্জার কারিকুরি।
মঙ্গলবার গণেশ পুজো, তাই তামাম কৃষ্ণনগরে এখন উৎসবের আমেজ। গণেশ পূজো নিয়ে মহাগণপতি, ক্লাব সান সাইন, বৈদিক, নবোদয়, নবজাগরণ ইত্যাদি ক্লাবের প্রস্তুতি তুঙ্গে। বাজারে হরেক রকম সাজসজ্জার সামগ্রী, আলো এবং পুজোর নানা উপকরণ বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
বেশ কিছু কৃষ্ণ নাগরিকদের মতে, জগদ্ধাত্রী পুজোর পাশাপাশি গণেশ পুজোর এই উত্থান কৃষ্ণনগরের উৎসবের ক্যালেন্ডারে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুজো ঘিরে রয়েছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান, নাটক, শিশুদের জন্য নানা প্রতিযোগিতা এবং এমনকি রক্তদান শিবিরও।
বেশির ভাগ প্রতিমা শিল্পীদের কথায়, আগামী সোমবার গণেশ পুজো। গণেশ মূর্তির চাহিদা বিগত কয়েক বছর ধরে বেড়েছে। বিভিন্ন ছোটো- বড়ো উচ্চতার ও বৈচিত্র্যময় থিমের তৈরি গণেশের চাহিদা বিপুল। বিশেষ করে ছোটো আকারের গদি গণেশ, তাণ্ডব গণেশ ও রাজা গণেশের কদর রয়েছে। গণেশ প্রতিমার দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে যেমন সাইজ ও নকশা হবে সেই অনুযায়ী হবে।
কৃষ্ণনগর পালপাড়ার মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পাল বলেন, আমি ছোটো আকারের বম্বে স্টাইলের গণেশ গড়ে থাকি। সূক্ষ্ম কারুকার্যে গণেশকে সাজিয়ে তুলি। প্রতিমার অর্ডার মোটামুটি রয়েছে। কাজের বেশ চাপ আছে।
মহাগণপতি ক্লাবের এক সদস্য সৌরভ দে বলেন, এবার আমরা ৬ বছরে পদার্পণ করলাম। বাজেট প্রায় ৬ লাখ টাকা। মণ্ডপ সজ্জায় অভিনবত্ব থাকছে। লাইটিং সহযোগে ফুটিয়ে তোলা হবে। এবছর আমরা রক্তদান শিবির আয়োজন করেছি।
ক্লাব স্টারের সদস্য দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, পুজো মানে শুধু প্রতিমা, মণ্ডপ আর আলোকসজ্জা নয়। পাড়ার মানুষকে একত্রিত করা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা দেওয়াও আমাদের লক্ষ্য। পুজোর দিন সবার জন্য লাড্ডু প্রসাদের ব্যবস্থা থাকবে।