নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম শহরকে পরিবেশবান্ধব শহর হিসাবে গড়ার উদ্যোগ চলছে। পুরসভা এলাকায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় থুতু, বর্জ্য ফেললে জরিমানার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। শনিবার সকালে পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার শাকিল আহমেদের নেতৃত্বে শহরের সবজি বাজার ও জুবিলি মার্কেটে অভিযান চালানো হয়। বাজারের দোকানদাররা প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে সবজি ও জিনিসপত্র দিচ্ছেন কি না তার উপর চলে নজরদারি । সবজি বাজারের উচ্ছিষ্ট বর্জ্য কোথায় ফেলা হচ্ছে সেটাও খতিয়ে দেখা হয়।
প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ১২০ মাইক্রনের নিচে থাকা প্লাস্টিক পচনশীল নয়। বাজারে ব্যবহৃত ক্যারিব্যাগগুলি কত মাইক্রনের সেটা পরীক্ষাযোগ্য। প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের গেজ মাপতে থিকনেস গেজমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরের বাজারে অভিযান চালানোর সময় পুরসভার আধিকারিকরা গেজমিটার ব্যবহার করেছেন কি না তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
পুরসভার তরফে বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগে সচেতন করাও হয়নি। জরিমানার নির্দেশিকা জারি হলেও শহরের বাজারগুলিতে অবাধে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের ব্যবহার হচ্ছে। শহরের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ক্রেতাদের বড়ো অংশ জিনিসপত্র কেনার জন্য ব্যাগ বা থলি আনার অভ্যাস ভুলতে বসেছেন। ক্রেতারা জিনিসপত্র নেওয়ার সময় ক্যারি ব্যাগই চাইছেন। ক্রেতা হারানোর ভয়ে তাঁরা ক্যারিব্যাগেই জিনিসপত্র দিয়ে দিচ্ছেন। বিকল্প ক্যারি ব্যাগের ব্যবস্থাও হয়নি ।
ঝাড়গ্রাম শহরের নতুন ডিহিতে এক মুদিখানার দোকানদার বলেন, কেউ কেউ বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে আসছেন। চেনা ক্রেতাদের ক্যারি ব্যাগ দিতে বাধ্য হচ্ছি। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার শাকিল আহমেদ বলেন, শহরে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা ও প্লাস্টিকের ব্যবহার রুখতে ক্রমাগত অভিযান চালানো হচ্ছে। দোকানদারদের সচেতন করার পরেও নিয়ম না মানলে তাঁদের জরিমানা করা হচ্ছে।