নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এবার কমিকস বুকে ঠাঁই পেতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপি তাঁদের ‘পোস্টার বয়’কে কমিকসের আকারে তুলে ধরে শিশু মনে দাগ কাটার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে তাঁর বিজয়গাঁথা তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে গেরুয়া শিবির। তার অন্যতম অংশ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের হাতে মোদিজিকে নিয়ে তৈরি কমিকস বই দেওয়া হবে। স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির উদ্দেশ্য স্পষ্ট, যে প্রধানমন্ত্রীকে খুদেদের কাছে ‘সুপার হিরো’ হিসাবে তুলে ধরা। শনিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল বিজেপি সাংগঠনিক জেলার তরফে ‘সেবা সংকল্প’ অভিযান নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদির জন্মদিন থেকে একমাস ধরে কী করা হবে, তাই তুলে ধরেন মন্ত্রী। সেখানেই এই কমিকস বইয়ের প্রতিকৃতি তুলে ধরেন পুরমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অগ্নিমিত্রা।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রিয় মোদিজি গুজরাতে কী উন্নয়ন করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বে দেশ অর্থনীতিতে ১১তম স্থান থেকে আজ তিন নম্বরে পৌঁছানোর মুখে। এই কমিক্স বইয়ে শিশুরা তাঁদের মতো করে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানার সুযোগ পাবে। এই বই বাংলার প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দেওয়া হবে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়েছে। বিজেপি একে ঢালাও ভাবে প্রচার করলেও বিরোধীরা সমালোচনায় সরব। কংগ্রেস জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি কমিকস বুকে লিখবে তো যে মোদির জমানায় দেশে ধর্মীয় অস্তিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পড়শি দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বের জ্বালায় মানুষ আত্মহত্যা করছে। শিশু মনে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তাঁদের মনকে বিষিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় বিজেপি। সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ছোটোরা আরেকটা ‘চাচা চৌধুরী’ পাবে। চাচা চৌধুরীকেও কেউ মনে রাখেনি ওঁকেও কেউ মনে রাখবে না। এসব করে আর বিজেপি সুবিধা করতে পারবে না।
আসানসোলের একটি হোটেলে এদিনে বিজেপির অনুষ্ঠানে অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য এবং কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ডা. অজয় পোদ্দার, জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, রাজ্য কমিটির সদস্য বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী প্রমুখ। শুধু কমিক্স বই পড়ুয়াদের হাতে দিয়েই থামবে না বিজেপি। নরেন্দ্র মোদির প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরতে প্রতিটি এলাকায় গিয়ে গিয়ে চলবে নিরন্তর প্রচার। এজন্য বিজেপি দলীয় কর্মীদের প্রতিটি শক্তিকেন্দ্র থেকে দশটি করে রিল বানাতে হবে। যেখানে উল্লেখ থাকবে মোদিজির আমলে শুরু হওয়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পে সেই এলাকার মানুষ কতভাবে উপকার পেয়েছেন। এছাড়াও মোদিজির প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে গল্প লেখার প্রতিযোগিতাও হবে।