Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাপে পড়ে ইস্তফাপত্র, ইমেলে প্রত্যাহার করেছি, দাবি সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষের

মা-বাবা এবং পরিবার তুলে বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ সহ্য করতে না পেরে এবং নিজেকে রক্ষা করতেই সাদা কাগজে লেখা পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

চাপে পড়ে ইস্তফাপত্র, ইমেলে প্রত্যাহার করেছি, দাবি সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষের
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মা-বাবা এবং পরিবার তুলে বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ সহ্য করতে না পেরে এবং নিজেকে রক্ষা করতেই সাদা কাগজে লেখা পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই জানালেন সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুম। ঘেরাও থেকে মুক্তি পেতে খোদ প্রধান বিচারপতিকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। আর চাপের মুখে পাঠানো পদত্যাগপত্র এবং ইমেল নিজেই খারিজ করে পাল্টা ইমেল করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। তাই তিনি যথারীতি কলেজে যাবেন স্বপদে বহাল থেকেই।

Advertisement

তরন্নুম জানান, তিনি ডিপ্রেশন এবং প্যানিক অ্যাটাকের রোগী। বিগত পাঁচ বছরে তৃণমূলের জমানায় কাজ করতে গিয়েই এ ধরনের মানসিক সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক রোগ হয়েছে তাঁর। বৃহস্পতি এবং শুক্রবারের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তিনি। পরিচালন সমিতির সভাপতি কৌস্তভ বাগচির এই পদে থাকার শিক্ষা, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন। এদিন তিনি জানান, পুলিশ, প্রশাসন কারও কাছে সাহায্য না পেয়ে প্রধান বিচারপতিকে মেসেজ পাঠান। তারপরেই তালা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাঁর দাবি, পড়ুয়ারা নয়, তাঁকে গালিগালাজ করেছেন বহিরাগতরা। তাঁরাই পড়ুয়াদের ভুল বুঝিয়েছেন। সেটা বহু পড়ুয়া তাঁর কাছে স্বীকারও করেছেন। তাঁর আশ্বাস, হাজিরা যথাযথ না থাকলেও এবার সবাই পরীক্ষা দিতে পারবেন। এর জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ইন্টেরিম রিলিফ পেতে সোমবার উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। আগামী সপ্তাহে দেখা করবেন শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও।
এই বিষয়ে অধ্যাপিকা জানিয়েছেন, যথাযথভাবে হাজিরা সংরক্ষিত হত। এ নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে তা ঠিক নয়। তা প্রকাশও করা হয়েছে। তবে, হঠাৎ পরীক্ষা ঘোষণা হওয়ায় উপস্থিতির হার উন্নতি করার সুযোগ ছিল না পড়ুয়াদের সামনে। সিলেবাসও শেষ হয়নি। এই উপস্থিতি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট একটি ছাড় দিয়েছিল। তারপরই পড়ুয়ারা কিছুটা গা ছাড়া হয়ে পড়েন। তবে, সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের নির্দেশই বহাল রেখে অন্তত ৬৫ শতাংশ হাজিরা বাধ্যতামূলক করতে বলেছে। এর ফলেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইস্তফা প্রসঙ্গে বলেন, কলেজের প্যাডে নয়, পড়ুয়াদের টাইপ করে আনা সাদা কাগজে তিনি সই করেছিলেন। তাঁদের চাপে ইমেলও করেছিলেন। তবে, পদ্ধতিগত ত্রুটি তো ছিলই। তাছাড়া তিনি পাল্টা ইমেলে সেটি কার্যত প্রত্যাহারও করেছেন। তাই তাঁর পদত্যাগ গ্রাহ্য হবে না বলেই দাবি তাঁর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ