Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইংলিশবাজার: জন দরবারে আছড়ে পড়ল অভিযোগের পাহাড়, হিমসিম পদ্ম বিধায়ক

বিধায়কের জন দরবারে আছড়ে পড়ল অভিযোগের পাহাড়। কারও অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনায় একবার টাকা ঢুকলেও আর মিলছে না।

ইংলিশবাজার: জন দরবারে আছড়ে পড়ল অভিযোগের পাহাড়, হিমসিম পদ্ম বিধায়ক
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বিধায়কের জন দরবারে আছড়ে পড়ল অভিযোগের পাহাড়। কারও অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনায় একবার টাকা ঢুকলেও আর মিলছে না। কারও অভিযোগ, ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকায় আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড হচ্ছে না। কারও ক্ষোভ, আবাসের প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার পর এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে নাম। ফলে ঘরের টাকা আর মিলছে না। কেউ আবার অভিযোগ করেন, ভাঙা ঘরে বাস করলেও সার্ভে করতে এসে প্রশাসনের আধিকারিকরা বলছেন, তাঁর নাম অ্যাক্টিভ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ, আগেই নাকি সরকারি ঘর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেহাল রাস্তা, পানীয় জলের সংকট, পথবাতির অভাব, জবকার্ড না মেলার মতো অভিযোগ তো আছেই। সবমিলিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় জহুরাতলা হাইস্কুলে জন দরবারে অভিযোগ শুনতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয় ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়িকে। নালিশ জানাতে মাইক্রোফোন হাতে নিতে কার্যত কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। অনেকে অভিযোগ জানানোর সুযোগ না পেয়ে রেগে চলে যান। যা দেখে বিধায়ক বলেন, সব অভিযোগ একদিনে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে এমনটা ভাবা ভুল। আমি তিনমাস অন্তর প্রতিটি অঞ্চলে এমন শিবির করব। সেখানে প্রত্যেকেই তাঁদের অভাব অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাবেন। আমার বিধায়ক অফিসে গিয়েও সমস্যার কথা জানাতে পারেন। 

Advertisement

অন্নপূর্ণা যোজনায় যাঁদের একবার টাকা ঢোকার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিংবা পোর্টালে অ্যাপ্রুভ দেখানো সত্ত্বেও টাকা ঢুকছে না, তাঁদের বিষয়টি দেখার জন্য প্রতিটি অঞ্চলে হেল্প ডেস্ক চালুর আশ্বাস দেন ইংলিশবাজারের বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান। আয়ুষ্মান কার্ড নিয়ে তাঁর বক্তব্য, যাঁদের ডিজিটাল রেশন কার্ড আছে, তাঁরা কার্ড পেয়ে যাবেন। যাঁদের কাগজের বড়ো রেশন কার্ড, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর পর তাঁদেরও হবে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার কারণে যাঁদের আবাসের টাকা ঢুকছে না, তাঁদের নাম তোলার জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করতে বলেন বিধায়ক। সেই সঙ্গে আবাসের সার্ভের নামে কেউ টাকা চাইলে যাতে না দেন, সেব্যাপারে সতর্ক করেন বাসিন্দাদের। যদুপুর-২ অঞ্চলের আমজামতলার বাসিন্দা সন্ধ্যা মণ্ডলের অভিযোগ, আমার ভাঙা ঘর। কিন্তু এখন জানতে পারছি, আমার জবকার্ডের নম্বর দিয়ে কেউ নাকি ঘর পেয়ে গিয়েছে। এদিন বিধায়ককে অভিযোগ জানালাম। তিনি পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করতে বলছেন। কিন্তু আবাসের ঘর পাব কি না সেব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারলাম না। গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা যমুনা চৌধুরীর অভিযোগ, স্বামী বীরেন মণ্ডল প্যান্ডেলের কাজ করে। স্বামীর নামে আবাসের ঘর মেলে। একবার ৬০ হাজার টাকা ঢোকে। এর পর এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে স্বামীর নাম কেটে যায়। ফলে আর ঘরের টাকা মিলছে না। অসমাপ্ত ঘরে ত্রিপল টাঙিয়ে রয়েছি। 
জহুরাতলার বেহাল রাস্তা নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়কের  দাবি, রাস্তা সংস্কারের জন্য ২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের অনেকেও অন্নপূর্ণার টাকা না মেলা নিয়ে বিধায়কের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ