নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লম্বা, ফর্সা, সুদর্শন। চাবুকের মতো চেহারা টলিউডেও দিব্যি মানানসই। সাদা পাঠান স্যুটে প্রবল ঔদ্ধত্য। ভাইজানকে ঘিরে রেড রোডের পাশের ক্লাবে হাতছুট ছেলের ভিড়। সমঝে চলেন ক্লাবের শীর্ষকর্তারা। প্রবল দাপটে ট্যাঁ-ফোঁ করার জো নেই। তর্ক করার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন চিমা। নাইজেরিয়ান ফুটবলার তখন তরুণ। বোহেমিয়ান, ডাকাবুকো, ডোন্ট কেয়ার। শার্টের তিনটে বোতাম খোলা। উঁকি মারে রুপোর ক্রস। মেজাজটাই আসল রাজা। বেয়াদপি সহ্য হয়নি ভাইজানের। সপাটে চড়ের শব্দ নাকি ক্লাব তাঁবুর বাইরে থেকেও শোনা গিয়েছিল। অপমানিত, লাঞ্ছিত চিমা মুখ নীচু করে তাঁবু ছাড়েন। গোলমালের সময়ে স্নানের অজুহাতে বাথরুমে লুকিয়েছিলেন এক সিনিয়র ফুটবলার। থরথরিয়ে কাঁপছিলেন অনেকে। প্রবীণ সমর্থকদের স্মৃতিতে এখনও টাটকা ভাইজানের কীর্তি।
পাঠান স্যুটের সাম্রাজ্য কলুটোলা। তস্য গলি পেরিয়ে তাঁর অফিস। সেখানে বসেই ব্যবসা চালাতেন ভাইজান। অসম্ভব শৌখিন। পছন্দের দোকান থেকে রোজ রাতে অফিসে পৌঁছে যেত স্পেশাল বিরিয়ানি। ক্লাব রাজনীতিতে তিনিই নেপথ্য নায়ক। কলুটোলার ভাইজানের বহুমুখী নেটওয়ার্ক। অপারেশনের জন্য স্রেফ কোর টিমের উপর ভরসা করতেন তিনি। আটের দশকের শুরুতে রেড রোডের পাশের ক্লাবে তখন অন্য জেল্লা। এক সম্ভ্রান্ত চা ব্যবসায়ীর দৌলতে টাকা উড়ছে। পাল্লা দিতে হিমশিম মোহন বাগান, ইস্ট বেঙ্গল। ঠিক এমন আবহে কার্যত মসিহা বনে যান ভাইজান। ঘরোয়া লিগের ম্যাচে কাঠের গ্যালারির নির্দিষ্ট আসনে বসতেন। লাইন্সম্যান তটস্থ। শীতল চাউনি অতি বড় সাহসীরও হাঁটু কাঁপিয়ে দেবে। ওটাই নির্দেশ। কার ঘাড়ে ক’টা মাথা তা অমান্য করে! নিঃশব্দ ফিক্সিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, পছন্দের রেফারির বাড়িতে ঠিক সময়ে তোফা পৌঁছে দিত কোর গ্রুপের লোকজন। দামী ফলভর্তি টুকরি কিংবা নিউ মার্কেটের ব্র্যান্ডেড দোকানের শার্ট, প্যান্টের পিস। ‘ভাইজান পাঠিয়েছেন।’ সবকিছু বোঝাতে এটাই কাফি। তবে সবকিছুরই শেষ থাকে। পরবর্তীতে ধস নামে ভাইজানের সাজানো সাম্রাজ্যে। সে এক অন্য ইতিহাস।