Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোক্ষম সময়ে নিষ্ক্রিয় তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন, এসআইআরে সহযোগিতা মিলবে কি, উঠছে প্রশ্ন

শুরু হতে চলেছে এসআইআর। দায়িত্বে থাকবেন বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)

মোক্ষম সময়ে নিষ্ক্রিয় তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন, এসআইআরে সহযোগিতা মিলবে কি, উঠছে প্রশ্ন
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুরু হতে চলেছে এসআইআর। দায়িত্বে থাকবেন বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)। তাঁদের একটা বড়ো অংশই সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষকরা। তৃণমূল কংগ্রেস নীতিগতভাবে এসআইআর বিরোধী। অথচ, রাজ্যের শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের যাবতীয় কমিটিই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় এসআইআরে ভোটারদের নাম ঢালাও বাদ গেলে বিজেপিরই সুবিধা। এই এসআইরে তৃণমূল দলগতভাবে নজরদারি করতে না পারলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলবে বিজেপি। আর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি থেকেই অধিকাংশ নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হবে। বিভিন্ন ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই অবস্থায় শিক্ষক মহলের উপরে রাশ আলগা হওয়াকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছে না তৃণমূলের একাংশ।
সংগঠনের রদবদল অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনে শ্যামপদ পাত্র দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে ওই পদে আনা হয় অশোক রুদ্রকে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব সামলেছেন। তারপর বিজেপি থেকে আসা বিধায়ক সৌমেন রায়কে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েকমাস পরে তিনি ফের বিজেপিতে ফিরে গেলে দায়িত্বটি পান একসময় আইএসএফের টিকিটে ভোটে দাঁড়ানো ও পরে তৃণমূলে আসা মইদুল ইসলামকে। তাঁরপরে এই দায়িত্ব পান পলাশ সাধুখাঁ। তাঁকেও সরতে হয়। তিনি আবার ফেরেন। অর্থাৎ, আড়াই বছরে সভাপতি পালটেছেন চারজন!
রদবদলের একই ছবি মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনেও। প্রথম সভাপতি দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁকে সরিয়ে সুব্রত গুহকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কার্যকরী সভাপতি ছিলেন প্রীতম হালদার। পরে আবার প্রীতমই সভাপতি হন। তারও পরে আনা হয় বিজন সরকারকে। কেন এত রদবদল? রাজনৈতিক মহলের মতে, বেশকিছু অভিযোগ থাকলেও রদবদলের একমাত্র কারণ সেসব নয়। সারা রাজ্যের শিক্ষক সমাজের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারবেন, তাঁদের সংগঠিত করতে পারবেন, এমন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল।
এদিকে, এসআইআরই একমাত্র ইস্যু নয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নতুন করে টেট দিতে হবে রাজ্যের কয়েক লক্ষ শিক্ষককে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে সুপরামর্শ দেওয়ার মতো শিক্ষক নেতারও অভাব বোধ হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য ইতিমধ্যেই রিভিউ পিটিশনের পথে হেঁটেছে। তবে, মঙ্গলবারও শিক্ষাদপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক আধিকারিক বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পর্যালোচনা করে দেখছি।’ অর্থাৎ, বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ