মুম্বই: এভাবেও ফিরে আসা যায়! বিশ্বকাপের স্কোয়াডেই ছিলেন না শেফালি ভার্মা। ওপেনার প্রতীকা রাওয়াল চোট পাওয়ায় কার্যত ‘ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি’ পান ডানহাতি ব্যাটার। তখন কে জানত, শেফালিই হয়ে উঠবেন ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের কাণ্ডারি! রবিবাসরীয় ফাইনালে রোহতকের রানির অলরাউন্ড পারফরম্যান্সেই পুড়ে ছারখার দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট হাতে ৮৭ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতে দু’টি মূল্যবান উইকেট তুলে তিনিই ম্যাচের সেরা। খেতাবি যুদ্ধের ভবিষ্যৎ লিখে উঠে যেন সদর্পে জানালেন, ‘এখনও ফুরিয়ে যাইনি।’
ভারতীয় প্রমীলা ব্রিগেডের জয় নিশ্চিত হতেই ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের গ্যালারি মুখরিত ‘শেফালি, শেফালি’ স্লোগানে। ধন্যি মেয়েও তখন হাউহাউ করে কাঁদছেন। ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতে তিনি বলেন, ‘ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। প্রথমে স্কোয়াডে সুযোগ না পাওয়ায় খুব মন খারাপ হয়েছিল। তবে ঈশ্বর আমাকে বিমুখ করেননি। আর আমার আইডল শচীন স্যার গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সামনে দলের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখতে পেরে আপ্লুত।’
একটা সময় শেফালিকে বলা হত মহিলাদের ক্রিকেটের বীরেন্দ্র সেওয়াগ। কিন্তু গত দু’বছরে আচমকা নিম্নমুখী তাঁর পারফরম্যান্সগ্রাফ। তারই মধ্যে ওপেনার হিসেবে উঠে আসেন প্রতীকা রাওয়াল। ভারতীয় স্কোয়াডে দ্রুত জায়গা পাকা করে ফেলেন তিনি। প্রতীকার দুরন্ত ফর্ম কামব্যাকের সুযোগ দেয়নি শেফালিকে। তবে হতাশায় ভেঙে পড়েননি রোহতকের ২১ বছরের লড়াকু কন্যা। তারমধ্যেই ভাগ্য হঠাত্ দরজায় কড়া নেড়ে বলল— ‘এবার তোমার সময়’। যে প্রতীকার উত্থান তাঁকে ঠেলে দিয়েছিল অনিশ্চয়তার অন্ধকারে, সেই ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’র চোটের জেরেই বিশ্বকাপে ‘ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি’ পেয়ে যান শেফালি। সেমি-ফাইনালে অবশ্য সুবিধা করতে পারেননি। তবে ফাইনালে চেনালেন নিজের জাত।
হরিয়ানার ছোট্ট শহরে বেড়ে ওঠা শেফালি বিলক্ষণ জানেন সংগ্রামের অপর নামই জীবন। বাইশ গজে ছেলেদের সঙ্গে খেলে বড় হওয়া। কত প্রতিবন্ধকতাই না পেরোতে হয়েছে— সমাজের বাঁকা চোখ, মাঠে ঠাট্টা, আর্থিক অনটন। অনেকে কটাক্ষও করতেন ‘মেয়েরা আবার ছক্কা হাঁকাতে পারে!’ কিন্তু প্রতিবারই শেফালির ব্যাট জবাব দিয়েছে, ‘হ্যাঁ পারে, যদি সাহস থাকে।’ রবিবাসরীয় ফাইনালে সেই সাহসই হয়ে ওঠে তাঁর ব্রহ্মাস্ত্র। ক্রিজে যাওয়ার সময় তাঁর চোখের দৃঢ়তাই বলছিল, ‘দিনটা আমার।’ মারকুটে ব্যাটার হিসেবেই তিনি পরিচিত। তবে রবিবার ডি ওয়াই পাতিল দেখল এক পরিণত ও দায়িত্বশীল শেফালিকে। মারার বল মারলেন, ছাড়ার বল ছাড়লেন। ওডিআই বিশ্বকাপে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসেবে হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়লেন। সেঞ্চুরির নজিরও হতে পারত। অল্পের জন্য হাতছাড়া হল সেই সুযোগ। তবে এই ৮৭ রানের ইনিংস সেঞ্চুরির থেকে কোনও অংশে কম নয়। বোলিংয়েও তিনি ছিলেন সারপ্রাইজ প্যাকেজ। রান তাড়া করতে নেমে উলভার্ট-লুজ জুটি কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু শেফালির গোল্ডেন আর্মেই তা ভেঙে চুরমার।