Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাঙন রোধে প্রার্থনা জানিয়ে শুরু হয়েছিল ধুলিয়ান কাঞ্চনতলা জমিদারবাড়ির পুজো

ভাঙন রোধের প্রার্থনা জানিয়েই শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো।

ভাঙন রোধে প্রার্থনা জানিয়ে শুরু হয়েছিল ধুলিয়ান কাঞ্চনতলা জমিদারবাড়ির পুজো
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভাঙন রোধের প্রার্থনা জানিয়েই শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। ৩০০ বছরের প্রাচীন ধুলিয়ান কাঞ্চনতলা জমিদারবাড়ি দুর্গাপুজো ঘিরে এমনই কাহিনি প্রচলিত। মা দুর্গাকে সন্তুষ্ট করলেই গঙ্গা ভাঙন রোধ হবে, এই আশায় মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের জমিদার বাড়িতে মা দুর্গার সঙ্গে একত্রে শুরু হয় গঙ্গাপুজো। বর্তমানে আভিজাত্য ও জৌলুস বজায় রেখেই এখানে ২২টি পুতুলের পুজো হয় একসঙ্গে। তাই এই জমিদার বাড়ির দুর্গা ‘বাইশ পুতুলের পুজো’ নামে সকলের কাছে পরিচিত। এখানে দেবীর মাথার উপর শিব বিরাজমান। তাঁর উপরে থাকেন দেবী গঙ্গা। তাঁর অবস্থান সবার উপর। গঙ্গাদেবীকে পুজো করে ভাঙন রোধের প্রার্থনা করেন সকলে। দেবীর বামদিকে থাকেন বিজয়া, নরসিংহ। শিবের ডানদিকে ভিরিঙ্গি, বামে নন্দী। একপাশে থাকেন রাম, লক্ষ্ণণ ও মকরবাহন। অপরদিকে বিষবাহণ। সঙ্গে অসুর, সিংহ, গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী। 

Advertisement

বর্তমানে মু্র্শিদাবাদ জেলায় এই পুজো হলেও পুজোর শুরু হয়েছিল মালদা জেলার দেওনাপুরে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে রাঘবেন্দ্র রায় ছিলেন সেখানকার জমিদার। পরবর্তীকালে বারবার গঙ্গা ভাঙন ও বন্যায় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় জমিদার পরিবারকে। বাধ্য হয়ে ১৮২৫ সালে কাঞ্চনতলা তথা ধুলিয়ানে জমিদার বাড়ি নির্মাণ করা হয়। এই রায়বাড়ির পুজো এখনও পূর্বপুরুষের রীতি মেনেই হয়ে আসছে। ১১ জন দেবী ও ১১ জন দেবতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয় পুজো। এবারও কৃষ্ণনবমীতে ঘট ভরে পুজো শুরু হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন রীতি মেনে বাড়ির মূল দরজা বহিরাগতদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রতিবছর জমিদার বাড়ির পুরুষরা ঢাক বাজান। মহিলারা দেবীকে বরণ করে সিঁদুর খেলায় মাতেন। দেবীকে কাঁধে করে আজও নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গার ঘাটে। এখনও আয়োজন করা হয় বাইচ প্রতিযোগিতার। এক সময় ধুলিয়ান জমিদার বাড়ির বাইশ পুতুলের পুজো দেখতে ঝাড়খণ্ড থেকে গোরুর গাড়িতে মানুষ আসতেন। তবে আজ আর ভিনরাজ্যের মানুষ আসেন না। উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় বিখ্যাত ছবি ‘জলসাঘর’ ও ‘দেবী’ সিনেমার শুটিং হয়েছিল এই ধুলিয়ান জমিদার বাড়ির কিছু অংশে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পুজো দেখতে এসে সেই স্মৃতিও রোমন্থন করেন। বাড়ির অন্যতম সদস্য সুদীপ রায় বলেন, আমি এই পরিবারের দশম পুরুষ। ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে পুজো আয়োজন হয়ে আসছে আমাদের বাড়িতে। এই পুজোর বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে ২২ পুতুলের পুজো হয়। ১১ জন দেব এবং ১১ জন দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। চালচিত্রের সবার উপরে আছেন গঙ্গা এবং তারপরে আছেন শিব এবং তাদের সঙ্গে অনুচরেরা। মহালয়ার আগে নবমীতে ঘট বসিয়ে পুজো শুরু হয়। চলবে দুর্গাপুজোর নবমী পর্যন্ত। সারা বছর কাজে কলকাতায় থাকলেও প্রতিবার পুজোর সময় গ্রামে ফিরি। এখানে এলেই উৎসবের আনন্দ বোঝা যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ