Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিস্ফোরক পোস্ট কাঁথির বিজেপি নেত্রীর, দলের জেলা সভাপতির অনুগতদের লাগামছাড়া দুর্নীতি

বিজেপির কাঁথির সাংগঠনিক জেলা সভাপতির অনুগত নেতারা ব্যাপকহারে দুর্নীতি করছেন। জেলা সভাপতি কি ঘুমাচ্ছেন?

বিস্ফোরক পোস্ট কাঁথির বিজেপি নেত্রীর, দলের জেলা সভাপতির অনুগতদের লাগামছাড়া দুর্নীতি
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিজেপির কাঁথির সাংগঠনিক জেলা সভাপতির অনুগত নেতারা ব্যাপকহারে দুর্নীতি করছেন। জেলা সভাপতি কি ঘুমাচ্ছেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি এই ভাষাতেই পোস্ট করে হূলস্থূল ফেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কাঁথির বিজেপি নেত্রী কৃষ্ণা দাস। ২০২১ সালে কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর পদে থাকা কৃষ্ণাদেবী শুভেন্দুবাবুর উপর ভরসা রেখেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রীর পদ কেড়ে নিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু, সেসব তোয়াক্কা করেননি তিনি। পেশায় শিক্ষিকা কৃষ্ণাদেবী এখন বিজেপি নেত্রী। দল ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে উত্তর কাঁথি বিধানসভার ৩ নম্বর মণ্ডলে লাগামহীন দুর্নীতি দেখে তিনি আর চুপ থাকতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটিয়ে দিয়েছেন। নিশানায় রেখেছেন জেলা সভাপতিকেই। কৃষ্ণাদেবীর এভাবে মুখ খোলায় রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েছে গেরুয়া শিবির। তবে, জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেছেন, ‘যিনি দুর্নীতির অভিযোগ করছেন তিনি আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করছেন না কেন? সমাজ মাধ্যমে ভাসিয়ে দিয়ে সস্তায় বাজারমতা করে কি দুর্নীতি ধরা যাবে। তা ছাড়া কে টাকা নিচ্ছে, কাকে দিচ্ছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।’ কৃষ্ণাদেবী মূলত উত্তর কাঁথি বিধানসভার অন্তর্গত ৩ নম্বর মণ্ডল এলাকার বিজেপি নেতাদের কাণ্ড কারখানা নিয়ে সরব হয়েছেন। ভাজাচাউলি, লাউদা, কুমিরদা ও দেবেন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে উত্তর কাঁথির ৩ নম্বর মণ্ডল কমিটি। গত ৪ মে পালাবদলের পর ওই মণ্ডলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস শুরু হয়। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা বিকাশ বেজ, নন্দদুলাল মাইতি সহ অনেকেই ঘরছাড়া। তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। অনেকের কাছ থেকে জোর করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মোটা অঙ্কের জরিমানার শর্তে তৃণমূলের অঞ্চল ও স্থানীয়স্তরের অনেক নেতা ঘরে ফিরেছেন। আবার, ভেড়ি থেকে চিংড়ি তুলে জোর করে বিক্রি করে টাকা হাতানোর মতো ঘটনার নালিশও রয়েছে।

Advertisement

একদা লাল সন্ত্রাসে বিধ্বস্ত ছিল ভাজাচাউলি। তখন থেকেই এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। সিপিএমের বহু নেতা-কর্মী এখন বিজেপির নেতা। পালাবদলের পর ভাজাচাউলিতে তৃণমূল নেতাদের উপর বেদম মারধরের পাশাপাশি জরিমানাও ধার্য হয়। এনিয়ে জেলা নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ পৌঁছালেও তাতে রাশ টানা যায়নি। এবার সেই ৩ নম্বর মণ্ডল এলাকায় বিজেপি নেতাদের লাগামহীন অনৈতিক কাজ নিয়ে মুখে খুলেছেন কৃষ্ণাদেবী। মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেত্রী বলেন, ‘আমি যা দেখেছি সেটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছি। আশাকরি, দল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ