নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টানা বৃষ্টিতে রাস্তার হাল বেহাল। তাই বর্ষা শেষ হলেই তাদের অধীনে থাকা রাস্তাগুলির স্থায়ী মেরামতির কাজ শুরু করে দেবে পূর্তদপ্তর। তবে তার আগে পর্যন্ত রাস্তাগুলি মানুষ এবং যানবাহনের চলাচলের উপযুক্ত রাখতে জোড়াতাপ্পি দেওয়ার কাজ (প্যাচওয়ার্ক) শুরু করেছে দপ্তর। রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার রাস্তায় এই সাময়িক মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে।
গোটা রাজ্যে পূর্তদপ্তরের অধীনে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা। এর মধ্যে আট হাজার কিলোমিটার রাস্তা এখনও ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়িড’ (ডিএলপি)-এর মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ, এই সমস্ত রাস্তা তৈরি হয়েছে গত পাঁচ বছরের মধ্যে। তাই এর মেরামতি করবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ঠিকাদারকে দিয়ে এই রাস্তাগুলি দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। বাদবাকি রাস্তাগুলি পূর্তদপ্তরের পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতের টাকায় মেরামতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, বীরভূম, দুই বর্ধমান, কোচবিহার, দার্জিলিং, বাঁকুড়া, নদীয়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, কালিম্পং, দার্জিলিং সহ অন্যান্য জেলায় মোট ৫৪২টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জোড়াতাপ্পি দেওয়ার প্রয়োজন বলে উঠে এসেছে দপ্তরের রিপোর্টে। এর মধ্যে অনেকগুলি রাস্তার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বাকি রাস্তায় সাময়িক মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু করতে জেলায় নিযুক্ত পূর্তদপ্তরের আধিকারিক-ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষা মিটলে কোন কোন রাস্তায় স্থায়ী মেরামতির প্রয়োজন রয়েছে, সেই তালিকা তৈরির কাজও শুরু করেছে পূর্তদপ্তর। জানা গিয়েছে, অগ্রাধিকার অনুযায়ী স্থায়ী মেরামতির জন্য রাস্তার তালিকা ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্তদপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই তালিকার পর্যালোচনা চলছে বলে খবর। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘আমরা সবাই তৈরি থাকছি। বর্ষা মিটে গেলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তার স্থায়ী মেরামতির কাজে নামা হবে।’