Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

মহার্ঘ পেট্রল-ডিজেলে নাভিশ্বাস আম জনতার

‘রোজ ২ টাকা, ৩ টাকা করে না বাড়িয়ে একবারে ১০-১৫ টাকা বাড়িয়ে দিলেই তো পারে! ১০ দিনের মধ্যে পেট্রলের দাম বেড়ে গেল লিটার পিছু ৮ টাকা ২ পয়সা। এর সঙ্গে একধাক্কায় অনেকটা দাম বাড়ার কী পার্থক্য রইল?

মহার্ঘ পেট্রল-ডিজেলে নাভিশ্বাস আম জনতার
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘রোজ ২ টাকা, ৩ টাকা করে না বাড়িয়ে একবারে ১০-১৫ টাকা বাড়িয়ে দিলেই তো পারে! ১০ দিনের মধ্যে পেট্রলের দাম বেড়ে গেল লিটার পিছু ৮ টাকা ২ পয়সা। এর সঙ্গে একধাক্কায় অনেকটা দাম বাড়ার কী পার্থক্য রইল? একটু একটু করে দাম বাড়লে কি মানুষের চোখে লাগবে না? এটাই কি সরকারের স্ট্র্যাটেজি?’ বাইকে তেল ভরার জন্য শহরের একটি ব্যস্ত পেট্রল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে রাগে গজগজ করছিলেন আলিপুরের যুবক সৌরীন বসু। তিনি একা নন। পেট্রল-ডিজেল যেভাবে দিনে দিনে মহার্ঘ হয়ে উঠছে, তাতে আম জনতারই নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়! তাদের ক্ষোভ আরও বাড়ছে কারণ মাসের শেষের দিকে এমনিতেই পকেটে টান পড়ে। অথচ বাইক বা গাড়িতে অফিস বা কর্মস্থলে পৌঁছতে গেলে জ্বালানির জন্য মোটা খরচ করতেই হবে। 

Advertisement

১৫ মে থেকে ২৫ মে—এই ১১ দিনে কলকাতায় পেট্রলের দাম বেড়েছে ৮ টাকা ২ পয়সা। আর লিটার পিছু ডিজেলের দাম বেড়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা। এই বাড়তি খরচের কারণে স্বভাবতই সমস্যায় পড়ছেন গাড়ি, অ্যাপ ক্যাব, বাইক, ট্যাক্সি বা বাসের মালিক ও চালক। এত অল্পদিনের মধ্যে চার দফায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি শেষ কবে হয়েছিল, স্মরণ করতে পারছেন না কেউই। বাইক চালকদের দাবি, রাতের বেলা তাঁদের একটা অনিশ্চয়তা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। কালই আবার পেট্রলের দাম বেড়ে যাবে না তো! তাই অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁরা লাইন দিচ্ছেন পেট্রল পাম্পে। কারণ, রাতে তেল ভরে নিলে পরের দিন আবার দাম বাড়লেও কিছুটা রেহাই মিলবে। অ্যাপ বাইক চালকদের মতে, তেলের লাগাতার দাম বৃদ্ধির পরও তাঁদের দৈনিক উপার্জনে কোনো হেরফের হয়নি। তাঁদের ‘রেট কার্ড’ অপরিবর্তিত রয়ে গিয়েছে। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে এবং প্রতিযোগী অ্যাপ বাইক সংস্থাকে টেক্কা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম খরচে সওয়ারি তুলছে অ্যাপ মারফত। ফলে অ্যাপ বাইক চালকদের পকেটে দিনের শেষে তেমন কিছুই থাকছে না। একই অভিযোগ, অ্যাপ ক্যাব চালকদেরও। তাঁদের বক্তব্য, ‘মালিকের যে গাড়ি রোজ দু’বেলা নিয়ে বেরতেন দু’টি আলাদা শিফ্টের চালক, সেই গাড়িই এখন এক বেলা বেরচ্ছে। তেলের দাম বেড়েছে। তাছাড়া, গরমকাল হওয়ায় যাত্রীরা এসি চালাতে বলছেন। তাতে জ্বালানি খরচ আরও বেশি হয়।’  
শুধু গাড়ি বা বাইক চালকদের মধ্যে ক্ষোভ জন্মেছে, তা নয়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির রেশ খুব শীঘ্রই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজারেও পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভিন রাজ্য থেকে আনা সবজি থেকে শুরু করে মুদিদ্রব্য বা রোজকার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পিছনে অতিরিক্ত খরচ করতে হবে ভেবে উদ্বিগ্ন আম জনতা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ