Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হিমবাহ ভাঙার প্রক্রিয়া চলে দীর্ঘ সময় ধরে, প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারিতে সতর্কতা সম্ভব, মত প্রাক্তন জিএসআই কর্তার

ল্যাংটাং রিরুং পর্বতে বিশাল মাপের হিমবাহ ভেঙে নেপাল ও লাগোয়া তিব্বতে প্রলয় ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহ ভাঙার এই প্রক্রিয়া চলছে অনেক মাস বা বছর ধরে।

হিমবাহ ভাঙার প্রক্রিয়া চলে দীর্ঘ সময় ধরে, প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারিতে সতর্কতা সম্ভব, মত প্রাক্তন জিএসআই কর্তার
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: ল্যাংটাং রিরুং পর্বতে বিশাল মাপের হিমবাহ ভেঙে নেপাল ও লাগোয়া তিব্বতে প্রলয় ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হিমবাহ ভাঙার এই প্রক্রিয়া চলছে  অনেক মাস বা বছর ধরে। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১.৩ কিলোমিটার চওড়া হিমবাহ অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙে পড়ার কথা নয়। তাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে হিমবাহগুলির গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখলে এই ধরনের বিপর্যয় সম্পর্কে আগাম ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই মতো মানুষকে আগাম সতর্ক করে  প্রাণহানি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি  কমানোর সুযোগ আছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি ও তাতে থাকা অত্যাধুনিক রেডারের সাহায্যে হিমবাহগুলির উপর এই ধরনের নজরদারি সম্ভব বলে মনে করেন ভূতাত্ত্বিক শিখেন্দ্র দে। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের নীচে হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদগুলির (গ্লেসিয়াল লেক) পরিস্থিতির (সেখানে কত জল জমছে বা প্রাকৃতিক প্রাচীর কতটা মজবুত আছে)  উপর প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি ও মানুষকে সতর্ক করার সুযোগ আছে। কয়েক বছর আগে সিকিমে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (জিএলওএফ) থেকে বিপর্যয়ের পর কেন্দ্রীয় সরকার নজরদারি ও আগাম সতর্কতার পরিকাঠামো তৈরি করতে চারটি রাজ্যের জন্য ১৫০ কোটি টাকার বিশেষ  প্রকল্প ঘোষণা করেছিল।’

Advertisement

নেপালের ঘটনার ‌পর জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর শিখেন্দ্রবাবু হিমবাহ বিপর্যয় নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করেছেন। কর্মজীবনে তিনি হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহ এলাকায় গিয়ে সেগুলির চারিত্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁর মতে, হিমবাহগুলি তৈরি হওয়া ও ভেঙে পড়া একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ধিত বিশ্ব উষ্ণায়ন, হিমালয় অঞ্চলে বেপরোয়া নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে এখন হিমবাহের ভাঙন বাড়ছে। হিমবাহ যে ভাঙতে চলেছে, তার অনেক ইঙ্গিত অনেক আগে থেকে পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে-হিমবাহের মধ্যে ফাটল তৈরি, সেখানে বড় গর্ত হয়ে জল জমা, ঢালের অস্থিরতা, হিমবাহের  নীচে যে কঠিন শীতল ‘পারমাফস্ট’ থাকে, সেখানে কোনো পরিবর্তন প্রভৃতি। এসব কারণে হিমবাহ গলতে গলতে নীচে নামতে থাকে। এক সময় হিমবাহ নিজের ভার ধরে রাখতে না পেরে বরফ, পাথর, কাদা, জল নিয়ে নীচে নেমে আসে।
জিএসআই-এর প্রাক্তন কর্তা আরও জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট থেকে  তোলা ছবি ও সেখানে থাকা অত্যাধুনিক বিভিন্ন রেডারের মাধ্যমে হিমালয়ের হিমবাহগুলিতে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তার উপর নজরদারি করা সম্ভব। ভারত সরকারের নিজস্ব অনেকগুলি এই ধরনের স্যাটেলাইট আছে। সেখান থেকে যে  পরিষ্কার ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়, আগাম সতর্কতার জন্য সরকার তা ব্যবহার করতেই পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ