সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ওই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে তারকেশ্বরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে নতুন সাজে সাজছে তারকেশ্বর মন্দির। নীল-সাদার পরিবর্তে গোটা মন্দির চত্বর রাঙিয়ে উঠছে গেরুয়া-সাদায়।
২০১৭ সালের জুন মাসে তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারকেশ্বরকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে পুকুরের পাশে আচ্ছাদন সহ রাস্তা, আলো, সৌন্দর্যায়নের কাজ হয়েছিল। মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় নীল-সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছিল। অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরের আদলে এই মন্দিরকে সাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দুধপুকুরের জল পরিশুদ্ধ করতে প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, সেই কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এবার রাজ্যে পালাবদলের পর নীল-সাদা এখন অতীত। তার বদলে মন্দির চত্বর সেজে উঠছে গেরুয়া-সাদা রঙে। গত ২ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তারকেশ্বর এসে মাঠ পরিদর্শন করেছিলেন। এই মাঠেই ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দুধপুকুরের চারপাশের রং পরিবর্তন করতে হবে। হিন্দু আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে নীল-সাদা রং বেমানান। তারপর থেকেই রং বদলের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। নতুন রঙের প্রলেপ পড়ায় এখন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মন্দির প্রাঙ্গণ। একইভাবে রাজবাড়িতেও রংয়ের কাজ চলছে। তবে মূল মন্দিরের চিরাচরিত রং অপরিবর্তিত থাকছে।
তারকেশ্বরের মন্দিরের পুরোহিত অর্ধেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, মন্দিরের রং নীল-সাদা ছিল না। দুধপুকুরের আশপাশের এলাকা নীল-সাদা রং করেছিল তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ। বর্তমানে তা গেরুয়া-সাদা হচ্ছে। গেরুয়া রং ত্যাগের প্রতীক। জাতীয় পতাকায় এই রং রয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত, মঠের স্বামীজিরা এই রংয়ের পোশাক পড়েন। পুরোহিত হিসাবে আমরা এই রংকে স্বাগত জানাচ্ছি।