Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আয়ুষ্মান ভারতের জন্য তিন ধরনের ফর্ম, জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়া ভিড়ে ভোগান্তি

স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তাদের নাম তুলতে হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে। আবার নতুন উপভোক্তাদেরও এই স্বাস্থ্যবিমার আওতাভুক্ত করতে হবে।

আয়ুষ্মান ভারতের জন্য তিন ধরনের ফর্ম, জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়া ভিড়ে ভোগান্তি
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তাদের নাম তুলতে হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে। আবার নতুন উপভোক্তাদেরও এই স্বাস্থ্যবিমার আওতাভুক্ত করতে হবে। তাই তৈরি করা হয়েছে তিন ধরনের আবেদনপত্র বা ফর্ম। এই স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ নিতে জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে মানুষের ঢল নেমেছে। রোদে ঘেমেনেয়ে চরম দুর্ভোগ সহ্য করেও উপভোক্তা তালিকায় নাম তুলতে চাইছে মানুষ। সেই সঙ্গে তাঁদের মনে উঁকি দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। আয়ুষ্মান ভারত কারা পাবে, আর কাদের জুটবে না—তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, ‘ঘেঁটে ঘ হয়ে আছে পরিস্থিতি’। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য তিন ধরনের আবেদনপত্র তৈরি করা হয়েছে। একটি আবেদনপত্র সাধারণ ফর্মের মতোই। নাম-ধাম সব পূরণ করতে হবে। আরেকটি আবেদনপত্রে আগে থেকেই উপভোক্তার নাম এবং আধার নম্বর দেওয়া আছে। কেন এই ধরনের আবেদনপত্র? কীসের ভিত্তিতে স্থির করা হয়েছে ফর্মে উপভোক্তার নাম? পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই ‘প্রি ফিল’ বা আগে থেকে নামযুক্ত আবেদনপত্রগুলি রাজ্যের তরফেই পাঠানো হচ্ছে। যাঁরা কেন্দ্রের খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় রেশন পান, তাঁদের নামযুক্ত আবেদনপত্র আসছে। সেই নির্দিষ্ট ফর্ম নিয়ে ‘আশা’ কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। পরে সেগুলির স্ক্রুটিনি হবে। এসআইআরে তাঁদের নাম আছে কি না, দেখা হবে তাও। আরও নানা রকম ছাঁকনি আছে। আছে আরও এক ধরনের আবেদনপত্র। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট ফর্ম রয়েছে। 
সূত্রের খবর, এসআইআরের পর এই প্রবীণদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখে নেওয়ার জন্যই এই পৃথক ফর্ম। কেন এত রকমের ঝক্কি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যথারীতি। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একটি পরিবারের জন্য একটিমাত্র কার্ড দেওয়া হত। সেখানে মূল উপভোক্তা হিসাবে পরিবারের মহিলার নাম থাকত। তাঁর সঙ্গেই শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী, পুত্র, কন্যাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট মহিলার নিজের বাবা-মায়ের নাম রাখা যেত। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতে উপভোক্তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কার্ড করার কথা চলছে। কলকাতায় প্রায় ৭ লক্ষ ৬০ হাজার স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তা রয়েছেন। সেখানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ব্যক্তি বিশেষে কার্ড হলে উপভোক্তার সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অবস্থায় গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই চলছে চরম ভোগান্তি। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সময় একদম কম। প্রথম দিকে সরকারের তরফে ঠিকমতো প্রচারও করা হয়নি। ফলে বহু মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা আয়ুষ্মান ভারতের জন্য শিবিরে চলে আসছেন। লোকের মধ্যে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ রয়েছে। পুরসভার তরফে বারবার বলা হচ্ছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বরো অফিসে ফর্ম জমা নেওয়া হবে। যাঁদের অন্ত্যোদয় রেশন কার্ড রয়েছে, তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলা হচ্ছে। তবুও মানুষ শুনছে না। নানা প্রশ্ন করছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তখন আধার নম্বর দিয়ে দেখে নেওয়া হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে ‘প্রি ফিল’ আবেদনপত্র রয়েছে কি না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ