পরামর্শে কনসালটেন্ট জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জেন ডাঃ ইন্দ্রনীল পাল।
পরামর্শে কনসালটেন্ট জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জেন ডাঃ ইন্দ্রনীল পাল।
বছর পঞ্চান্নর সুচরিতা বসু। বছর কয়েক ধরেই হাঁটুর ব্যথা ও সমস্যায় ভুগছেন। বছর পাঁচেক বাকি চাকরির! তাই হাঁটু বদলানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। চিকিৎসক পরামর্শ দিলেন হাই ফ্লেক্স হাঁটু প্রতিস্থাপনের। এখন সেই অপারেশন করিয়ে দিব্য সুস্থ সুচরিচতাদেবী। অফিসে সিঁড়ি ভেঙে ওঠা থেকে ছাদে গিয়ে গাছে জল দেওয়া, মেঝেতে বসা সবই করতে পারেন।
হাঁটু প্রতিস্থাপন আর নতুন কথা নয়। ভারতীয় সংসার ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসে হাঁটুর উপর চাপ পড়ার মতো নানা কাজ করা হয়। যেমন— রান্নাঘরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রান্না করা, ঠাকুরঘরের মেঝেতে পা ভাঁজ করে বসা, শিশুকে কোলে বসানো, মেঝেতে বসে বঁটিতে আনাজ কাটা ইত্যাদি। এসব করতে অক্ষম হলে অনেকেই একটা বয়সের পর হাঁটু প্রতিস্থাপনের শরণ নেন। তবে সাধারণ হাঁটু প্রতিস্থাপনের পর অনেক রোগীই পর্যাপ্ত ফ্লেক্সন বা হাঁটু বাঁকানোর প্রক্রিয়া পুরোপুরি করতে পারেন না। তাঁদের ওই প্রতিস্থাপিত হাঁটুর সীমিত ক্ষমতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এখানেই কার্যকরী হাই ফ্লেক্স হাঁটু প্রতিস্থাপনের। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ইমপ্লান্ট রোগীর শরীরের উপযোগী করে এমনভাবে তৈরি যাতে রোগীরা অস্ত্রোপচারের পর ১২৫-১৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বা ততোধিক পরিমাণে নিরাপদে হাঁটু ভাঁজ করতে পারেন। এতে দৈনন্দিন কাজ সহজ হয়।
কেন করবেন?
প্রথমত হাঁটু ভাজে আরও ফ্লেক্সিবিলিটি বা স্থিতিস্থাপকতা আনার জন্য এই পদ্ধতি অত্যন্ত উপযোগী। তাছাড়া হাই-ফ্লেক্স প্রযুক্তি হাঁটুর চলাচলে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনে। এতে হাঁটুতে চাপ কম লাগে, ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এবং রোগী খুব দ্রুত স্বাভাবিকভাবে হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা-নামা, মেঝেতে বসা ইত্যাদি করতে পারেন। এই ধরনের ইমপ্লান্টের স্থায়িত্বও বেশি।
কারা করবেন?
যাঁদের অল্পবয়সেই হাঁটু প্রতিস্থাপন করাতে হলে, পেশাগত কারণে যাঁদের ঘন ঘন হাঁটু ভাঁজ করতে হয় বা হাঁটুর ব্যবহার বেশি করতে হয়, তাঁদের জন্যও এই পদ্ধতি খুব নিরাপদ ও উপযোগী।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়