নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একেই গোটা রাস্তা অজস্র খানাখন্দে ভরা। তার উপর ত্রিফলা পথবাতিগুলিও বেহাল। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ঢাকে হাওড়া-আমতা রোড। ডোমজুড়ের মাকড়দহ মোড় থেকে বিডিও অফিস পর্যন্ত রীতিমতো ঘুটঘুটে অন্ধকার। বর্ষায় প্রায়দিনই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা। চরম সমস্যায় পড়ছেন সাইকেল, টোটো ও বাইকচালকরা।
ডোমজুড় ব্লক মূলত গ্রামীণ এলাকা হলেও অধিকাংশ জায়গাতেই শহুরে ছাপ স্পষ্ট। হাওড়া-আমতা রোডের দু’পাশে গজিয়ে উঠেছে একের পর এক বড়, মাঝারি আবাসন, বাজার কমপ্লেক্স। পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু নামীদামি বেসরকারি স্কুল। ফলে আশপাশের গ্রামীণ এলাকা ছাড়াও শহর থেকেও প্রচুর সংখ্যক সাধারণ মানুষ, পড়ুয়ার যাতায়াত লেগে রয়েছে এই রাস্তায়। দিনে কয়েক হাজার ছোট-বড় লরি, বাস চলাচল করে এই রাস্তায়। পাশাপাশি রয়েছে ছোট গাড়ি, অজস্র টোটো, বাইক, সাইকেল। এক সময় সন্ধ্যার পর রাস্তার দু’পাশে থাকা ত্রিফলা আলোয় আলোকিত হতো হাওড়া-আমতা রোড। ফলে চলাচল করতে কোনও সমস্যা হতো না সাধারণ মানুষের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল হয়ে রয়েছে পথবাতিগুলি। এরমধ্যে মাকড়দহ মোড় থেকে ডোমজুড় বিডিও অফিস পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা সবথেকে খারাপ। কোনও কোনও স্তম্ভ থেকে বাতি ভেঙে ঝুলছে। কোথাও আবার গাছের আড়ালে চলে গিয়েছে আস্ত ত্রিফলা বাতি। আগাছা জড়িয়ে থাকায় বেশ কয়েকটিকে খুঁজেই পাওয়া যায় না। অভিযোগ, মাসের পর মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে সেগুলি। পথবাতিগুলি সারানোর দায়িত্ব স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির হলেও তারা সেই কাজ করেনি।
এদিকে, হাওড়া-আমতা রোড সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ফলে আগে থেকে রাস্তায় তৈরি হওয়া গর্ত বোজাতে নতুন করে প্যাচওয়ার্কের কাজ হয়নি। বর্ষায় খানাখন্দে বৃষ্টির জল জমায় একেই হাওড়া-আমতা রোডে গাড়ির গতি কমে গিয়েছে। তার উপর সন্ধ্যা নামলেই রাস্তা ঢাকছে অন্ধকারে। ফলে চরম যানজট নিত্যদিনের ছবিতে পরিণত হয়েছে। মাঝেমধ্যেই সাইকেল, বাইক নিয়ে উল্টে পড়ছেন অনেকে। ডোমজুড়ের বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী সাব্বির আলি বলেন, ‘বড়বাজার থেকে কাজ মিটিয়ে ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। বৃষ্টি আর অন্ধকারে রাস্তার যা অবস্থা, তাতে মালপত্র নিয়ে বাইকে করে আসা খুব ঝুঁকির। অন্ধকারে রাস্তার গর্তই বোঝা যায় না।’ পথচারীদের অভিযোগ, রাতে এই রাস্তায় হাঁটার উপায় থাকে না। বড় বড় ট্রাকের হেডলাইটের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। আগে যখন ত্রিফলা পথবাতিগুলি জ্বলত, তখন এতটা সমস্যা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির তরফে জানানো হয়েছে, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলায় নতুন করে পথবাতি সারাইয়ের কাজ করা যাচ্ছে না। হাওড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতি বলেন, ‘রাস্তা অন্ধকার থাকায় সমস্যা হচ্ছে ঠিকই। তবে সম্প্রসারণের কাজ মিটে গেলেই স্থানীয় প্রশাসন ও পিডব্লুডির সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে নতুন পথবাতি লাগানো হবে।’