Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩০ বছর বাদুড়ের সঙ্গেই বসবাস ঘাটবাওরবাসীর

বাদুড়ের শরীর থেকেই নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সেই বাদুড়ের সঙ্গেই প্রায় ৩০ বছর ধরে সহাবস্থান বনগাঁর ঘাটবাওরের বাসিন্দাদের।

৩০ বছর বাদুড়ের সঙ্গেই  বসবাস ঘাটবাওরবাসীর
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: বাদুড়ের শরীর থেকেই নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সেই বাদুড়ের সঙ্গেই প্রায় ৩০ বছর ধরে সহাবস্থান বনগাঁর ঘাটবাওরের বাসিন্দাদের। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকেও নিপা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র আতঙ্ক নেই ঘাটবাওরের বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, এতদিন বাদুড়ের সঙ্গে রয়েছি আমরা। ওরা কারও ক্ষতি করেনি। তাছাড়া নিপা ভাইরাসের কথা আমরা আগে কখনও শুনিনি।

Advertisement

বনগাঁ-বাগদা সড়কের পাশে ঘাটবাওর এলাকায় এক বিশাল বট গাছ রয়েছে। প্রায় ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে এই গাছই আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে বাদুড়দের। আট বছর আগে পুরানো আশ্রয়স্থল পরিবর্তন করে ৫০ মিটার দূরে একটি শিশু গাছে ঠাঁই নেয় কয়েকশো বাদুড়। সারাদিনই গাছের ডালে ঝুলে থাকে তারা। সন্ধ্যা নামার আগেই খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পরে ঝাঁকে ঝাঁকে। আবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ফিরে আসে সেই গাছে।

বুধবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বটগাছের নীচে বসে রয়েছেন বৃদ্ধ বিকাশ হালদার। নিপা ভাইরাসের কথা শুনতেই ভুরু কুঁচকে তাকালেন তিনি।

বাদুড় থেকে সেই রোগ ছড়ায় শুনে মুচকি হেসে তাঁর জবাব, বহু বছর ধরে এই গাছের নীচে বসে থাকি। গাছে অনেক বাদুড় থাকে। ওরা কখনও আমাদের ক্ষতি করেনি। আমরাও ওদের ক্ষতি করতে চাই না।

স্থানীয় যুবক শুকদেব হালদার বলেন, কয়েক বছর আগে এখান থেকে পাশের একটি গাছে গিয়ে থাকতে শুরু করে বাদুড়গুলি। ওরা কখনও কারও ক্ষতি করেনি। ওরা আগেও ছিল, এখনও আছে। কোনোদিন এমন ভাইরাসের কথা শুনিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী অজয় রায় বলেন, আমার বাড়ির উপর দিয়ে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে বাদুড় উড়ে যায়। ওরা ওদের মতো থাকে। শুধু মল-মূত্র পড়ে বাড়ির ছাদ নোংরা হয়। এলাকা থেকে ওদের তাড়াতে রাজি নন কেউ। বাদুড়ের সঙ্গেই বাস করতে চান ঘাটবাওরের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ মৃগাঙ্ক সাহারায় বলেন, বাদুড় নিপা ভাইরাস বহন করে। মানুষের শরীরে এসে এই ভাইরাস মারাত্মক রূপ ধারণ করে। তবে ভয় না পেয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ