নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিট-শেক্সপিয়র সরণি সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেলের পার্টিতে রমরমিয়ে ব্যবহার হচ্ছে কোকেন। অভিজাত পরিবারের তরুণ-তরুণীরাই এর মূল ক্রেতা। শহরের অভিজাত এলাকা থেকে নিষিদ্ধ এই মাদক ছড়িয়ে যাচ্ছে ই এম বাইপাস সংলগ্ন বিভিন্ন ফ্ল্যাটের পার্টিতে। এর জোগান দিচ্ছে তিলজলার যুবক আফসার আলির মাদক সিন্ডিকেট। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে পার্ক স্ট্রিট থানার হাতে। কতজন তার সঙ্গে কাজ করছে এবং আন্তঃরাজ্য মাদক কারবারের কোন ‘ডন’ রয়েছে এই কারবারের পিছনে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা চলছে।
থানার কাছে খবর আসছিল, পার্ক স্ট্রিটের পাঁচতারা হোটেলের আশেপাশে নিষিদ্ধ মাদক কোকেন সাপ্লাই করতে আসছে এক যুবক। শুধু সেখানেই নয়, পার্ক স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেলের সামনে তার উপস্থিতি নজরে আসছে। তরুণ-তরুণীদের ডেলিভারি দিয়ে বাইক নিয়ে পালাচ্ছে সে। অনেক সময় হোটেলের ভিতর গিয়েও সে কোকেন ডেলিভারি করছে। এই মাদক ব্যবহার করেই বিভিন্ন হোটেলে রাতভর চলছে পার্টি। পার্ক স্ট্রিট থানার অফিসাররা ওই ব্যক্তির সম্পর্কে খোঁজ শুরু করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়। থানার অফিসাররা তার উপর গত ১০দিন ধরে নজরদারি চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন মঙ্গলবার। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১০ গ্রাম কোকেন।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, পুরো কারবারটাই মোবাইল বেসড। ফোনে অর্ডার চলে আসছে। সেই অনুযায়ী হোটেলের সামনে ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা মতো আবার হোটেলের লবিতেও ‘মাল’ পৌঁছে যাচ্ছে। ক্রেতাদের মাধ্যমেই তার নাম ও মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়ছে কোকেন নেওয়ায় অভ্যস্ত তরুণ-তরুণীদের কাছে। প্রতিদিনই বাড়ছে কাস্টমার। আফসার জেরায় জানিয়েছে, তার কাছ থেকে যারা এই মাদক কিনছে, সকলেই ধনী পরিবারের সন্তান। দুভাবে এই মাদক ব্যবহার করে হচ্ছে পার্টি। একটি হলো হোটেলের মধ্যে পার্টি চলাকালীন মদ্যপানের সঙ্গে চলছে কোকেন নেওয়া। আর অন্যটি হলো পার্টি শেষে বিলাসবহুল গাড়িতে বসে বন্ধুদের সঙ্গে কোকেন সেবন। পার্ক স্ট্রিট ও শেক্সপিয়ার সরণি এলাকার সিংহভাগ হোটেলের সামনে সে এই মাদক পৌঁছে দেয় বলে জানিয়েছে। কোকেন নিয়ে ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীরাচলে যাচ্ছে বাইপাসের ধারে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে। সেখানকার পার্টিতে হাজির থাকছেন কোর গ্রুপের লোকজন। তদন্তে উঠে আসছে পার্ক স্ট্রিট থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। তার কাছ থেকে কোকেন কিনছে, এমন ক্রেতাদের নাম মিলেছে বলে খবর। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এই কোকেন আসছে মুম্বই থেকে। এরপর একাধিক হাত ঘুরে তা যাচ্ছে আফসারের কাছে। তদন্তকারীরা এই চেনটাই ‘ক্র্যাক’ করার চেষ্টা করছেন। মূল উৎসে পৌঁছতে অভিযুক্তের মোবাইলে যে সমস্ত নম্বর ও চ্যাট মিলেছে, সেগুলি পরীক্ষার কাজ চলছে।