সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক থেকে বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর; কোথাও বাবা-মায়ের সঙ্গে ছেলে-মেয়ের মধুর সম্পর্ক, আবার কোথাও হাঁদা-ভোদা বা নন্টে-ফন্টের দুষ্টুমি, এমন হরেক থিমের ডালি সাজিয়ে এবারে পুজোয় মেতেছে জয়নগর-মজিলপুর এলাকার বিভিন্ন পুজো কমিটি। এই পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মিত্রপাড়া সর্বজনীন পুজো কমিটি ফি বছর নানা চমক নিয়ে হাজির হয়। পুজো কমিটির কর্তা তমাল দত্ত বলেন, এটা আমাদের ৫৬ বছর। গুজরাতের অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে মণ্ডপ। সঙ্গে সাবেকি প্রতিমা।

Advertisement

জয়নগরের সরবেড়িয়া পল্লি সেবা সমিতির পুজো এবার ৬৮ বছরে পড়েছে। শিল্পী প্রতীক হালদার বলেন, এবার এখানকার থিম ছায়াবৃত্ত। সংসার বটবৃক্ষের মত। বাবা আগলে রাখে, মা আঁচল দিয়ে রক্ষা করে। সেই বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, তাঁদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত নিয়েই ছায়াবৃত্ত। মণ্ডপের ভিতরে বটগাছ তার শাখাপ্রশাখা বের করে দাঁড়িয়ে। মা কাজ করেও মানুষ করছে ছেলে-মেয়েকে। মায়ের সেই আঁচল থাকবে প্রতীক হিসাবে মণ্ডপ জুড়ে।
জয়নগর মাহিষ্যপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো এবার নয় বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা সুবীর মণ্ডল বলেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের পাহাড় এবার থাকবে আমাদের মণ্ডপে। থাকবে রেল স্টেশন, পাশে জঙ্গল। তারপরে গুহা, ঝর্ণা। ভিতরে জুলু উপজাতিদের বাস। এক জায়গায় বাঘ, ভাল্লুকও থাকছে।
জয়নগরের গহেরপুর মিলন সমিতির পুজো এবার ৭৪ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা জয়ন্ত দে বলেন, এবার থিম তুমিই আদি, তুমি অনন্ত। শিবমন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে মণ্ডপ। দালানে শিবের বিভিন্ন রূপ দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন। পাশাপাশি, গহেরপুর সর্বজনীন এবারও বিশেষ আকর্ষণ নিয়ে হাজির। পুজো কমিটির কর্তা সত্যেন মণ্ডল বলেন, এবার ৩৫ তম বর্ষে আমাদের থিম সমুদ্রের অজানা কথা। সমুদ্রে দেখা যাবে তিমি মাছ মরে পড়ে আছে। ভিতরে প্লাস্টিক। অর্থাৎ সমুদ্রেও প্লাস্টিক দূষণ হচ্ছে, মারা যাচ্ছে জলজ প্রাণী। দেখা যাবে কচ্ছপও।
তিলিপাড়া স্পোটিং ক্লাবের পুজো এবার ২৯ বছরে পড়েছে। শিল্পী প্রতীক হালদার বলেন, এবার আমাদের থিম ‘আশায় বাঁচে চাষা’। কৃষকদের জীবনযন্ত্রণা, জীবনযাত্রা মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। জয়নগর মজিলপুরের জে এম ট্রেনিং সর্বজনীন পুজো কমিটির পুজো এবার ৬৩ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা জ্যোতিপ্রকাশ মণ্ডল বলেন, এবার সোমনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে।
জয়নগরের রথতলার আদর্শ নবপল্লি সর্বজনীনের পরিচালনায় পুজো এবারে ২৩ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা সৈকত মুখোপাধ্যায় বলেন, শিশু সাহিত্যিক নারায়ণ দেবনাথের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবার আমাদের থিম ‘নারায়ণী নমস্তুতে’। তাঁর সৃষ্টি হাঁদা-ভোদা, নন্টে-ফন্টে, সবই ফুটে উঠবে মণ্ডপে। দক্ষিণ বারাসত ইউনিয়ন বালক ও যুবক সংঘের এটা ৮৩ বছরের পুজো। পুজো কমিটির কর্তা প্রণবেশ্বর দাস বলেন, উদয়পুরের জগদীশপুরী মন্দিরের আদলে নির্মিত হচ্ছে মণ্ডপ। এছাড়া মধ্যশিবপুর বন্ধুমহলের পুজো এবার ৩৬ বছরের। পুজো কমিটির কর্তা প্রশান্ত মিস্ত্রি বলেন, বন্দেমাতরম দ্য টিউন আমাদের থিম। মণ্ডপে ঢুকলে দেখা যাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি লেখায় ব্যস্ত।