শহরের বহু জায়গায় পুজোর অস্থায়ী  বিজ্ঞাপনী কাঠামো খোলাচ্ছে পুরসভা
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিয়ম মানা হয়নি। তাই পুজোর আগেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য লাগানো বাঁশের অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে দিল পুরসভা। খুলে ফেলা হয়েছে পুজো সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনী ব্যানার, হোর্ডিংও। শহরের প্রায় ৮০টি জায়গা থেকে এমন বিজ্ঞাপন এবং তার স্ট্রাকচার খুলেছে পুরসভা। গত পাঁচ দিন ধরে চলছে অভিযান। আপাতত শনি এবং রবিবার অভিযান বন্ধ থাকবে। সোমবার থেকে ফের শুরু হবে ভাঙা ও খোলার কাজ। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ জানাচ্ছে, চলতি বছর পুজো সংক্রান্ত অস্থায়ী বিজ্ঞাপন লাগাতে এনওসি দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পুজো কমিটি এবং বিজ্ঞাপনদাতা এজেন্সিগুলিকে। কিন্তু বেশ কিছু জায়গায় বিজ্ঞাপন লাগানোর ক্ষেত্রে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করা হয়নি। যেখানে সেখানে বাঁশের কাঠামো বানিয়ে দেদার অস্থায়ী বিজ্ঞাপন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাসযাত্রীদের প্রতীক্ষালয়, সরকারি বা বেসরকারি স্থায়ী বিজ্ঞাপনি হোর্ডিং, ট্রাফিক সিগন্যালের পোস্ট, ট্রাফিকের বিভিন্ন দিক নির্দেশক বোর্ড এই অস্থায়ী বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। গত পাঁচদিন ধরে সেগুলি খোলার কাজ চালাচ্ছে পুরসভা। পাশাপাশি, রোড ডিভাইডার এবং মিডিয়ান স্ট্রিপে যেখানে যেখানে বাসের উঁচু স্ট্রাকচার বানিয়ে অস্থায়ী বিজ্ঞাপনী ব্যানার লাগানো হয়েছে, সেগুলিও খুলে ফেলা হচ্ছে। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার, শিয়ালদহ, উল্টোডাঙা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের বিভিন্ন অংশে, দক্ষিণে রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, যাদবপুরসহ একাধিক অঞ্চলের যেখানে যেখানে সরকারি যাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলি ঢেকে দিয়ে পুজোর বিজ্ঞাপন লাগানো হয়েছে, সেখানে বাঁশের কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপনগুলি খুলে ফেলা হয়েছে। পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সরকারি যাত্রী প্রতীক্ষালয়, ট্রাফিক সিগন্যাল কিংবা ট্রাফিকের দিক নির্দেশক বোর্ড ঢেকে অস্থায়ী বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, এমন প্রায় ৭০টি জায়গায় ভাঙার কাজ হয়েছে। ১০টি জায়গায় পুজো সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন রাস্তার মিডিয়ান স্ট্রিপে দেওয়ার জন্য সেগুলি খুলে ফেলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আপাতত পঞ্চমী বা ষষ্ঠীর আগে পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। মিডিয়ান স্ট্রিপগুলি যতটা সম্ভব ফাঁকা রাখাটাই লক্ষ্য। অন্যান্য যেসব জায়গায় নিয়মকানুন মেনে বিজ্ঞাপন লাগানো হয়নি, সেগুলি যতটা সম্ভব খুলে দেওয়া হবে। এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রতি বছর এনিয়ে অভিযোগ ওঠে। তবুও পুজো এবং রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে সেরকম কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করা হত না। এবার এগুলি খুলিয়ে একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, পরের বছর থেকে পুজো কমিটি বা বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলি যাবতীয় বিধিনিষেধ মেনেই পুজোকালীন অস্থায়ী বিজ্ঞাপন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।’ -নিজস্ব চিত্র