কলকাতা, ১০ অক্টোবর: ভোরে রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে অমলিন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। আর নদীর ঘাটগুলিতে তর্পণের জন্য হাজার হাজার মানুষের ভিড়। মহালয়ার সকালে চেনা ছবি রাজ্যজুড়ে। কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র ধরা পড়েছে একই চিত্র।
শাস্ত্রমতে মহালয়া হল‑‘পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা’। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা অমাবস্যা তিথিতে এই বিশেষ দিনে গঙ্গা বা জলাশয়ে মৃত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল ও তিল দান করা হয়। যাতে তাঁদের আত্মা শান্তি পায়। জলদানের মাধ্যমে তাঁদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। একেই বলা হয় তর্পণ। এদিন ভোর থেকে কলকাতা সহ জেলায় জেলায় চলছে তর্পণ। এজন্য প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
শনিবার ভোর থেকে বাবুঘাট, জাজেস ঘাট, বাগবাজার মায়ের ঘাট সহ প্রতিটি ঘাটে তর্পণ করলেন হাজার হাজার মানুষ। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি ঘাটে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। জলপথে চলল নজরদারি। ঘাট লাগোয়া রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে প্রশাসন।
এদিন ভোররাত থেকে নবদ্বীপের প্রতিটি ঘাটেই উপচে পড়া ভিড়। কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এদিনের স্নানপর্ব চলছে। নদীয়ার বাইরের জেলা থেকেও বহু মানুষ এসে পৌঁছান নবদ্বীপের বিভিন্ন স্নানঘাটে। জেলার অন্য ঘাটগুলির মতো বর্ধমানে সদরঘাটে চলছে তর্পণ। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ভোরে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন স্বয়ং জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল। বহরমপুরে ভাগীরথীর ঘাটে তর্পণে মানুষের ভিড়। ভোর থেকেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিটি ঘাটে। সুষ্ঠভাবে চলছে তর্পণ প্রক্রিয়া। ব্যতিক্রম নয় মালদহ। আজ ভোর থেকে মহানন্দায় মিশন ঘাটে চলছে পিতৃ তর্পণ।
মহালয়ার দিনেই মৃৎশিল্পীদের ঘরে প্রথা মেনে দুর্গার চক্ষুদান হয়। পাশাপাশি এই বিশেষ দিন অনেকেই পুজো দিয়ে কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যান। কোথাও এই দিন প্রকাশিত হয় শারদ পত্র‑পত্রিকা। সবমিলিয়ে মহালয়া থেকেই শুরু দুর্গাপুজোর ব্যস্ততা।



