


ওয়াশিংটন: ইস্তফা দিলেন হোয়াইট হাউস রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের একমাত্র মুসলিম মহিলা সদস্য সমীরা মুন্সি। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ‘বেআইনি’ যুদ্ধের প্রতিবাদেই তাঁর এই পদক্ষেপ। সমীরার অভিযোগ, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ‘গণহত্যাকারী রাষ্ট্র’ ইজরায়েলকে সাহায্য করতেই অন্যায়ভাবে যুদ্ধ চালাচ্ছে আমেরিকা।
২০২৫ সালে সমীরাকে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশনে নিযুক্ত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার এক্স হ্যান্ডলে ইস্তফার কারণ স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। সমীরা লেখেন, ‘দেশের ভিতরে-বাইরে অবিচার ও নৃশংসতা চালাচ্ছে এই প্রশাসন। সেই কারণেই আজ আমি পদত্যাগ করছি। কমিশন, সরকারের কোনও কর্তাকে ভয় পেয়ে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। এই কমিশনের বহু সদস্যকেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে দেখেছি। তাই এই পরিবেশে আর থাকতে চাই না।’
নিজের সিদ্ধান্তের আরও একটি কারণ জানিয়েছেন সমীরা। ফ্রেব্রুয়ারি মাসে কেরি প্রিজিয়ান বোলার নামে এক মহিলা সদস্যকে কমিশন থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। এতে আপত্তি জানান সমীরা। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম যে আমেরিকায় ধর্মীয় স্বাধীনতা সবথেকে বেশি। তবে কমিশনের অংশ হওয়ার পরেই সব ধারণা পালটে যায়। এখানে কেউ ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায় না। প্রত্যেকেই নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যস্ত। প্যালেস্তাইন নিয়ে স্বাধীন মতামত দিতে গেলে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। উদাহরণ হিসাবে বোলারের অপসারণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন সমীরা। অভিযোগ, ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বক্তব্য রাখার জন্য বোলারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমীরার তোপ, ‘মার্কিন নাগরিক ও সাধারণ মানুষের জীবনকে উপেক্ষা করছে এই দুর্নীতিবাজ ও বিপজ্জনক প্রশাসন। নিজের চোখে সেটা প্রত্যক্ষ করেছি। ইজরায়েলের তুলনায় আমি আমেরিকাকে বেশি সমর্থন করি। তার মানে এই নয় যে ট্রাম্পের পাশে থাকবে হবে।’