নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ঠিক এক মিনিট। পুজোর বুকিংয়ের উইন্ডো খোলার পর মুহূর্তে উধাও রেলের টিকিট! কনফার্মড টিকিট তো দূর অস্ত, এমনকী ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট টিকিটও অমিল। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছে বাঙালি। কারণ, গন্তব্যের কনফার্মড টিকিট বা সিট নম্বরের বদলে মোবাইল-ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ‘নো রুম’, ‘রিগ্রেট’ বার্তা। দিল্লি থেকে কলকাতা হোক কিংবা কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ—চিত্রটা সর্বত্র একই। শুধু ঘুরতে যাওয়াই নয়। পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফেরার টিকিট কাটতে গিয়েও একইভাবে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ রেল যাত্রীদের একটি বড় অংশকে। প্রশ্ন উঠছে, এইটুকু সময়ের মধ্যে আস্ত একটা ট্রেনের টিকিট কীভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে! তবে কি দালালরাজ এখনও অব্যাহত? তাদের ‘মারপ্যাঁচে’ই বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা?
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী। ২৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সপ্তমীর জন্য টিকিট উইন্ডো খোলে বৃহস্পতিবার সকালে। এই সময়সীমার মধ্যে ট্রেনের টিকিট ‘ফুরিয়ে যাওয়া’র ছবিটা ঠিক কেমন? হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চেয়ার কারে ২৭ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর কোনও টিকিট নেই। দেখানো হচ্ছে, ‘রিগ্রেট’। এগজিকিউটিভ চেয়ার কারে ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও টিকিট নেই। পুরোটাই ‘রিগ্রেট’। আর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৯ সেপ্টেম্বর চেয়ার কারে ওয়েটিং লিস্ট ২৯৮! শিয়ালদহ-এনজেপি দার্জিলিং মেলের থার্ড এসি, স্লিপারে ২৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুরোটাই ‘রিগ্রেট’। টু টিয়ার এসিতে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে টিকিট শেষ। শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গগামী পদাতিক এক্সপ্রেসেও ২৫ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘রিগ্রেট’ বার্তা। সেকেন্ড এসিতেও পরিস্থিতি তথৈবচ। পদাতিক এক্সপ্রেসে যদি উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় কেউ আসতে চান, তাহলেও একই চিত্র। ২৬ এবং ২৭ সেপ্টেম্বর থার্ড এসিতে টিকিট নিঃশেষ। অন্যদিকে, দিল্লি থেকে কলকাতায় যেতে হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসের সেকেন্ড ক্লাস এসিতে ২৭ সেপ্টেম্বর টিকিট অমিল। শিয়ালদহ রাজধানীর সেকেন্ড এসিতে ২৬ এবং ২৭ সেপ্টেম্বর টিকিটও ‘উধাও’।
রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের দাবি, উৎসবের মরসুমে এটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। স্পেশাল ট্রেন চালানো হলেই যাত্রীদের আর সমস্যা হবে না। কিন্তু মুহূর্তে টিকিট উধাও কোন জাদুবলে? রেলমন্ত্রকের দাবি, ট্রেনের টিকিটে দালালরাজ বন্ধ করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। যেমন, আধারভিত্তিক তৎকাল টিকিট বুকিং। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত দালালদের ই-টিকিটও বুকিংও করতে না দেওয়ার ব্যবস্থা। এরই পাশাপাশি দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতে ওয়েটিং লিস্টে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ‘ক্যাপিং’য়ের সিদ্ধান্ত। এর ফলে নির্ধারিত সংখ্যক টিকিট বুকিংয়ের পর ওয়েটিং লিস্টও পাওয়া যাবে না। টিকিট কনফার্মড করিয়ে দেওয়ার অসাধু চক্রের সক্রিয়তাও কমবে।
কিন্তু এতসব ঢক্কানিনাদ সত্ত্বেও বাস্তব হল, টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, কীভাবে মুহূর্তে এত টিকিট উধাও, তাতেই চক্ষু চড়কগাছ আম আদমির।