রাঁচি: মহেন্দ্র সিং ধোনির শহরে শাপমুক্তির খোঁজে ভারত। টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এখনও দগদগে। টিম ইন্ডিয়ার কাছে তা জোর কা ঝটকা। এই পরিস্থিতিতে রবিবার তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে অভিযান শুরু করছে ভারত। প্রোটিয়াদের পাল্টা চুরমার হতে দেখার অপেক্ষায় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারি। কিন্তু কাজটা সহজ নয়। তার কারণ, টিম ইন্ডিয়ার অন্দরমহলেই যে নানা সমস্যা।
অধিনায়ক শুভমান গিলের ছিটকে যাওয়া এমনিতেই মস্ত বড় ধাক্কা। নেই পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটের সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে যশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজদের। বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেলকেও রাখা হয়নি স্কোয়াডে। তার উপর নেতৃত্ব নিয়ে মিউজিক্যাল চেয়ার চলছে। ইডেনে প্রথম টেস্টে গিল ছিলেন ক্যাপ্টেন। গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে টস করতে যান ঋষভ পন্থ। আর প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে সেই দায়িত্ব পালন করবেন লোকেশ রাহুল। মজার হল, গুয়াহাটিতে পন্থের নেতৃত্বে খেলেছিলেন রাহুল। আর এই সিরিজে তারই উল্টোটা হতে চলেছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের ফোকাসে আবার দুই মহারথী। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি টেস্ট এবং টি-২০ ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়েছেন। এখন দেশের হয়ে শুধু পঞ্চাশ ওভারের ঘরানাতেই খেলেন তাঁরা। ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে খেলাই লক্ষ্য উভয়ের। কিন্তু ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাবই সংশয় তৈরি করছে। অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের পর খেলার মধ্যে ছিলেন না কেউ। আবার পরের দু’মাসে মাত্র ছ’টি ওডিআই পাবেন দু’জনে। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে এই সিরিজের পর জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ। ফলে ম্যাচ ফিট থাকা মোটেই সহজ নয়। ভারতীয় দলের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল যদিও দুই গ্রেটকেই কাপযুদ্ধে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। সঙ্গে যদিও শর্ত থাকছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশ্বকাপে খেলার অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু ম্যাচের অভাবে জং পড়বে না তো তাঁদের দক্ষতায়? সংশয় থাকছেই।
ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। স্কোয়াডে ধ্রুব জুরেলকে ধরলে তিনজন কিপার। অথচ, সঞ্জু স্যামসনের জায়গা হয়নি। রাহুল ও পন্থ মিডল অর্ডরে নামা মানে ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, তিলক ভার্মার জন্য দরজা বন্ধ। কারণ, এক থেকে তিন মোটামুটি ঠিকই আছে। শুরুতে রোহিতের সঙ্গে যশস্বী জয়সওয়াল। আর তিনে যথারীতি বিরাট। এরপর চার ও পাঁচে রাহুল, পন্থ। পরের তিনটে স্লট সম্ভবত অলরাউন্ডারদের। রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং নীতীশ রেড্ডি। একজন অলরাউন্ডারকে বসিয়ে কি ঋতুরাজ বা তিলককে খেলাবে ভারত? নাকি পন্থকে বসিয়ে রাখার সাহস দেখাবে হোমটিম?
পেস বিভাগের দায়িত্বে অবশ্যই অর্শদীপ সিং এবং হর্ষিত রানা। অনেকে অবশ্য তৃতীয় পেসার হিসেবে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাকেও খেলানোর পক্ষপাতী। সেক্ষেত্রে অবশ্য কুলদীপ যাদবের জায়গা হবে না প্রথম এগারোতে। তাতে অবশ্য লাভের সম্ভাবনা কম। কারণ কুলদীপ না খেললে মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট নেওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
তেম্বা বাভুমার দল অবশ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই নামতে চলেছে ওডিআই সিরিজে। গুয়াহাটিতে ভারতকে সত্যিই হামাগুড়ি দেওয়ার অবস্থায় এনে ফেলেছিসেন সাইমন হার্মার, মার্কো জানসেরা। কাগিসো রাবাডা, অ্যানরিখ নর্টজের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজে পেস বিভাগের দায়িত্বে যথারীতি জানসেন। আছেন জেরাল্ড কোয়েৎজি, নান্দ্রে বার্জারের মতো ভারতীয় কন্ডিশনের সঙ্গে অভিজ্ঞ পেসাররাও। স্পিন বিভাগের দায়িত্বে কেশব মহারাজ। ওপেনিংয়ে কুইন্টন ডি’ককের অভিজ্ঞতা কাজে আসবে। নজর কাড়ছেন তরুণ তুর্কি ম্যাথু ব্রেটজকীও।
ম্যাচ শুরু দুপুর ১-৩০মিনিটে।
সম্প্রচার স্টার স্পোর্টস, জিওহটস্টারে।