Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! রোগীর তুলনায় টেস্টের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি, উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রিএজেন্টের অভাবে ব্যয়বহুল পরীক্ষা বন্ধ

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে রিএজেন্ট সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বন্ধ। রোগীরা বেসরকারি ল্যাবে ব্যয়বহুল পরীক্ষা করাতে বাধ্য। বিস্তারিত পড়ুন।

কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! রোগীর তুলনায় টেস্টের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি, উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রিএজেন্টের অভাবে ব্যয়বহুল পরীক্ষা বন্ধ
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: রিএজেন্টের অভাবে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনটি-প্রোবিএনপি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল পরীক্ষা বন্ধ। এমন অবস্থায় রোগীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন ল্যাবে টেস্টের পরিসংখ্যান ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। 

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি ও সেন্ট্রাল ল্যাব বিভাগের একাধিক টেস্টে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যার তুলনায় টেস্টের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। সেই কারণেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বাইরে থেকে নমুনা অর্থাৎ স্যাম্পল এনে হাসপাতালের সরকারি ল্যাব ও পরিকাঠামো ব্যবহার করে গোপনে পরীক্ষা করানোর সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। 
হাসপাতালের এক প্রশাসনিক কর্তা জানান, এ ধরনের সন্দেহের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কাছে প্রতিমাসে কত রোগীর কী টেস্ট হয়েছে, কোন মেশিনে কতগুলি পরীক্ষা হয়েছে এবং হাসপাতালের টিকিট বা ভর্তি রোগীর ভিত্তিতে তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান চাওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই তথ্য জমা পড়েনি। এতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেই প্রশাসনের ধারণা। 
কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীর বেসরকারি ল্যাবের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। সেই ল্যাবের নমুনা সরকারি হাসপাতালের ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ল্যাবের সরঞ্জাম ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহ করে বাইরে পাঠানোরও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলেও দাবি। এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, অভিযোগগুলির যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। আমরা তা সরাসরি প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। ল্যাবে কারা কী নিয়ে ঢুকছেন বা বের হচ্ছেন, তার কড়া নজরদারি প্রয়োজন। কিন্তু নানা কারণে ল্যাবগুলিতে এই নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিকল্প উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। 
রিএজেন্টের (বিভিন্ন ক্লিনিকাল টেস্টে ব্যবহৃত রাসায়নিক) সংকটের জেরে বর্তমানে এনটি-প্রোবিএনপি (হৃদপিণ্ডের পরীক্ষা) সহ একাধিক ব্যয়বহুল পরীক্ষা হাসপাতালে বন্ধ। ফলে হৃদরোগের মতো গুরুতর অসুস্থতায় রোগীরা ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক রিএজেন্টের অভাবে একাধিক টেস্ট বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। 
এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওষুধের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তার বড়ো অংশই ওষুধ কিনতেই ব্যয় হয়ে যায়। রিএজেন্ট ও অন্যান্য ল্যাব সামগ্রী কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে রোগী পরিষেবায়। দেখা গিয়েছে, ওষুধ ও ল্যাব সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে মাসে এক কোটি টাকা বরাদ্দ এলে ল্যাব সামগ্রী কিনতেই ৩০ থেকে ৪৯ লক্ষ টাকা চলে যায়। ওষুধের জোগান ঠিক রাখতে ল্যাবের সামগ্রী কেনার উপর কোপ পড়ছে। এক আধিকারিক বলেন, আমাদের এখানে একই পরীক্ষার জন্য একাধিক মেশিন রয়েছে। যার কোনোটিতে খরচ এক হাজার, কোনোটিতে আবার আড়াই ও চার হাজার টাকা। তাই মেশির ভিত্তিক কত পরীক্ষা হচ্ছে সেই হিসাবও চাওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ