সংবাদদাতা, বোলপুর: ফরেনসিক মেডিসিন থেকে অ্যানাস্থেটিস্ট, জেনারেল মেডিসিন থেকে রেডিওলজিস্ট, বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসকের তীব্র অভাব। এসএনসিইউ, সিসিইউ ও আইসিইউতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। যার ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। শুধু রোগীরাই নন, হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা চালাতেও সমস্যায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। তাই দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি উঠছে সব মহল থেকেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে এমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন মাত্র আটজন। অথচ পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে অন্তত ১৬ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় চাপ বাড়ছে কর্মরত চিকিৎসকদের উপর। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। হাসপাতালে অন্তত ছ’ জন অ্যানাস্থেটিস্টের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন চারজন। তাঁদের অধিকাংশ সময় প্রসূতি বিভাগের কাজ সামলাতে হয়। ফলে অন্য ধরনের অস্ত্রোপচারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
মেডিসিন বিভাগেও চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। আগে সেখানে পাঁচজন চিকিৎসক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন অবসর নেওয়ায় এখন মাত্র দু'জন চিকিৎসক দিয়ে পরিষেবা চলছে। এই বিভাগেও অন্তত আরও তিনজন চিকিৎসক প্রয়োজন বলে হাসপাতাল সূত্রের দাবি। সবচেয়ে বেশি সংকট ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে। সেখানে অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে এই বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ না থাকায় হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয় না। ফলে মৃতের পরিবারের সদস্যদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যার মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
রেডিওলজি বিভাগেও একই অবস্থা। সেখানে কোনো রেডিওলজিস্ট নেই। ফলে রোগীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসএনসিইউ ও সিসিইউ বিভাগেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় পরিষেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে বহু রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসকের অভাবের বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্যভবনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ঘাটতি পূরণ হয়নি। ফলে প্রতিদিনই রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। শান্তিনিকেতন এলাকার রাজেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের এক আত্মীয় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় আমাদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। এছাড়াও ডাক্তার ঠিক সময়ে না দেখার অভিযোগ উঠেছে বারবার।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার দিবাকর সর্দার বলেন, চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। তাই সমস্যাও হচ্ছে। বিষয়টি আমরা একাধিকবার স্বাস্থ্যভবনকে জানিয়েছি। নির্বাচনের আগে মাত্র ছ’ জন চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল ঠিকভাবে চালাতে আরও চিকিৎসক দরকার। আশা করি নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।