Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার ৫ বিধানসভায় সন্দেহজনক ভোটার সংখ্যা আড়াই লক্ষের বেশি

নদীয়া জেলায় সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা ৫ লক্ষ ১৭ হাজার। তার পঞ্চাশ মধ্যে শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাঁচ বিধানসভার।

জেলার ৫ বিধানসভায় সন্দেহজনক ভোটার সংখ্যা আড়াই লক্ষের বেশি
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা ৫ লক্ষ ১৭ হাজার। তার পঞ্চাশ মধ্যে শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাঁচ বিধানসভার। সেগুলি হল করিমপুর, কালীগঞ্জ, পলাশীপাড়া, চাপড়া ও নাকাশিপাড়া। তৃণমূলের দখলে থাকা এই কেন্দ্রগুলোতে মোট সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৮ হাজার। যার মধ্যে কালীগঞ্জ, পলাশীপাড়া এবং নাকাশিপাড়া, এই তিনটি বিধানসভার প্রতিটিতে সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। নির্বাচন কমিশনের এই অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান  সন্দেহ জাগিয়েছে ঘাসফুল শিবিরে। ভোটাধিকার কাড়া নিয়ে রাজনৈতিক অভিসন্ধির গন্ধ পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইনিউমারেশন ফর্ম ও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তুচ্ছ ভুলের কারণে শুনানির নোটিস ধরিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কারও নামের বানান ভুল, আবার কারও ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক থাকায় নোটিস পাচ্ছেন। যার ফলে প্রতিদিন এই বিধানসভার অন্তর্গত বিডিও অফিসগুলোতে শুনানির জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ছে।

Advertisement

কালীগঞ্জ বিধানসভার পলাশীতে বেশি কয়েকটি বুথ নিয়ে রয়েছে জানকিনগর গ্রাম। সেখানে ৫০০০ ভোটারের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ভোটারকেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছে। আবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হাটগাছা পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের ৫৫০ জন ভোটারের মধ্যে নোটিস পেয়েছেন ২২৫ জন। অথচ তার পাশেই হিন্দু প্রভাবিত ২১২ নম্বর বুথে ৭০১ জন ভোটারের মধ্যে ৭২ জন ভোটার শুনানির নোটিস পেয়েছে। এমনিতেই ৬০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে কালীগঞ্জ বিধানসভায়‌। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক। ৫৯ হাজার ভোটারকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু আনম্যাপড ভোটার রয়েছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার। যার ফলে প্রতিদিন বিডিও অফিসে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের শুনানি হচ্ছে। কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুন বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে।

একই ছবি ধরা পড়েছে তৃণমূল দখলে থাকা করিমপুর বিধানসভাতেও। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত করিমপুর-১ ব্লকে ৩৩ শতাংশ এবং করিমপুর-২ ব্লকে ৬৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। এখানেও আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার। অথচ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার ৩৯ হাজার। করিমপুর-২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি সৌমেন বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন সংখ্যালঘু এলাকাগুলোকে টার্গেট করে মানুষকে হয়রান করছে। আমরা মানুষের সর্বদা পাশে থাকছি।

অন্যদিকে পলাশীপাড়া বিধানসভায় প্রায় ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। সেখানে সন্দেহভাজন ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৬ হাজার ৫০০ জনকে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে ৫১ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিল। আবার ৫৩ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষ থাকা নাকাশিপাড়া ব্লকে ৫৬ হাজার ভোটারকে সন্দেহভাজন হিসেবে নোটিস ইস্যু করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে চাপড়া বিধানসভায় প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষের বাস। এই কেন্দ্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার ৪৮ হাজার।

কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, কমিশনের ভূমিকা প্রথম থেকেই সন্দেহজনক ছিল। সময়ের সঙ্গে তার প্রমাণ হয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা এসআইআরের শুরুতে ছিল না। হঠাৎ এই নতুন অজুহাতে মানুষের মৌলিক অধিকার কাড়ার চক্রান্ত চলছে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজের কাজ করছে। তৃণমূল মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ