নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজোর সংখ্যা বেড়েছিল আগেই। বেড়েছিল থিমের দাপটও। এবার পুজো সংখ্যার নিরিখে ‘শতকীয়’ অধ্যায় লিখে ফেলল হুগলির রিষড়া। এই প্রথমবার ১০৩টি পুজো হবে হুগলির অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদ রিষড়ায়। গত কয়েকবছর ধরে চন্দননগরের সঙ্গে পুজোর পরিসর ভাগ করে নিতে শুরু করেছে রিষড়া। ঐতিহ্যের নিরিখে না হলেও জন সমাগমের কারণে জগদ্ধাত্রী পুজোয় হুগলি এবং রাজ্যের মানুষের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে রিষড়া। সেই ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। এবার পুজোর শতবর্ষ পার করার আগেই শতাধিক পুজো আয়োজনের নয়া পালক জুড়ে গেল হুগলির ওই জনপদের মুকুটে। তবে শুধু পুজো বাড়ছে তাই নয়, ভাসানের শোভাযাত্রার কলেবরও এবার বাড়ছে।
ইতিমধ্যেই পুজোর অনুমোদন সহ নিয়মশৃঙ্খলা তৈরির কাজ সেরে ফেলেছে রিষড়ার কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ, পুরসভার সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মণ্ডপ মাথা তুলতে শুরু করেছে। প্রতিমাতেও লেগেছে রঙের ছাপ। সবমিলিয়ে সাজসাজ রব রিষড়াজুড়ে। কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সভাপতি তথা রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্র বলেন, ৩০ অক্টোবর নবমী থেকে আমাদের পুজো শুরু হবে। চারদিন পরে তিন নভেম্বর বিসর্জনের নির্ঘণ্ট ছিল। কিন্তু মানুষের দাবিতে আমরা একদিন বাড়িয়ে দিয়েছি। চার নভেম্বর শোভাযাত্রা সহ বিসর্জন হবে। পুজোর সংখ্যা, ভাসানের শোভাযাত্রায় পুজো কমিটির অংশগ্রহণ, দু’টিই এবার বেড়েছে। পুজোর আয়োজনের বাহুল্যও চোখ ধাঁধানো হবে। সঙ্গে নিরাপত্তার কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। রিষড়ার অন্যতম পুরনো পুজো কমিটি কোরাস। সেখানকার পুজো উদ্যোক্তা মানিক বণিক বলেন, আমরা ৩৫ বছর আগে পুজো শুরু করেছিলাম। কিন্তু সামগ্রিকভাবে রিষড়ায় জগদ্ধাত্রী পুজোর আড়ম্বর শতবর্ষ পার করেনি। তার আগেই পুজোর সংখ্যায় সেঞ্চুরি হয়ে গিয়েছে। এটাই প্রমাণ করে পুজো নিয়ে রিষড়াবাসীর আবেগ প্রতিবছর বাড়ছে।
বাড়ির পুজোর নিরিখে রিষড়ার সবচেয়ে প্রাচীন পুজো হরবাড়িতে হয়ে আসছে। সে পুজোর বয়স ৩০০ পেরিয়েছে। কিন্তু বারোয়ারি বা ক্লাবের পুজোর সূত্রপাত ৯৮ বছর আগে হয়েছিল। রিষড়ার সেই প্রাচীন বারোয়ারির নাম দেওয়ানজি স্ট্রিট সর্বজনীন। সেই একটি পুজো থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে এসে ১০৩ হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মোট ৯৭টি পুজো হয়েছিল। সেবার ভাসানের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিল ২৭টি পুজো কমিটি। আবেগের বাহুল্যে এবার শোভাযাত্রাতে বাড়ছে আরও চারটি পুজো। অর্থাৎ শোভাযাত্রার পুজো সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩টি। রিষড়া শহরের মাঝ বরাবর চলে গিয়েছে রেলপথ। তাই শহর দু’ভাগে বিভক্ত, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়। কিন্তু পুজো মরশুমে আলোর বিপুল ঝরনা ধারা আর আবেগের বহতা ধারায় মিশে যায় রেলপথের বিভাজন। রঙিন শহর হয়ে ওঠে জগদ্ধাত্রী নগরী। এবারও সেই মায়ানগরী তৈরির প্রয়াস তুঙ্গে।