গত বছরের তুলনায় পুজোর ক’দিনে দুর্ঘটনায়  মৃত্যুর সংখ্যা কমল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: পুজোর ক’দিনে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির বলি হলেন ছ’জন। তবে এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম। গত বছর পুজোর সময় এই রাস্তায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৮ জনের। এবার প্রথম দিকে চারজনের মৃত্যুর পর যেভাবে পুলিশি কড়াকড়ি শুরু হয়েছিল, তাতে দুর্ঘটনার সংখ্যাকে বেশ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। মূলত বাইক ও চারচাকার গাড়ির রেষারেষির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি চারচাকার গাড়ি পালটি খাওয়ায় এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে গত কয়েক দিনে।

Advertisement

রাত বাড়লেই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ওঠে বাইক ও গাড়ির রেসিং ট্র্যাক। স্পিড লিমিটের বালাই নেই। এই ক’দিনে দুর্ঘটনায় ছ’জন মারা গেলেও আহত হয়েছেন অনেকে। মূলত গাড়ির তেল পড়ায় কাঁপা থেকে জাগুলি পর্যন্ত রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এই জায়গায় বহু বাইকের চাকা পিছলে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি বুঝে পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ে রাশ টানতে চতুর্থীর দিন থেকেই পথে নামে পুলিশ। কেউ মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন কি না, তা ব্রেদ অ্যানালাইজার দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ২৪ ঘণ্টাই নজরদারি চালান ট্রাফিকের কর্মীরা। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল বারাকপুরের ওয়্যারলেস মোড় ও সোদপুরে মুড়াগাছার সামনের অংশ। এই দুই জায়গায় বিশেষ নজরদারি চালায় পুলিশ। নির্ধারিত গতির তুলনায় জোরে গাড়ি চালালে একের পর এক জরিমানা করা হয়েছে। 
বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি ট্রাফিক রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকদিন আগেই বোর্ড লাগানো হয়েছে। চালকরা বেশিরভাগ সময় তা খেয়াল করেন না। তাই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা করেছি। যে কারণে গতবারের তুলনায় দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। এবার ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে, গতবার এই সংখ্যা ছিল ১৮। দুর্ঘটনাহীন পুজো মরশুম হোক, আমরা এটাই চেয়েছিলাম। এ ব্যাপারে মানুষেরও সচেতনতা দরকার। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।