Bartaman Logo
২৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লাফিয়ে বাড়ছে বিজেপির নজরদারের সংখ্যা, পুর-পরিষেবার উন্নতি অধরাই, চুঁচুড়ায় ভোগান্তি বাড়ছে নাগরিকদের

সাত মন তেল পুড়লেও রাধার নাচ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। বস্তুত চুঁচুড়া পুর পরিষেবার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সেকথাই বলছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচিত বোর্ড পদত্যাগ করায় প্রশাসক বসেছে পুরসভায়।

লাফিয়ে বাড়ছে বিজেপির নজরদারের সংখ্যা, পুর-পরিষেবার উন্নতি অধরাই, চুঁচুড়ায় ভোগান্তি বাড়ছে নাগরিকদের
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সাত মন তেল পুড়লেও রাধার নাচ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। বস্তুত চুঁচুড়া পুর পরিষেবার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সেকথাই বলছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচিত বোর্ড পদত্যাগ করায় প্রশাসক বসেছে পুরসভায়। 

Advertisement

স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ পুরসভার ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য প্রথমে ৩০ জন নজরদার বহাল করেন। তারপর তিনি নজরদারদের সাহায্য করতে আরও ৩০ জনকে দায়িত্ব দেন। এদিকে, এরমধ্যেই বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ও ৩০ জন ওয়ার্ড সেবক নিযুক্ত করেছেন। ফলে, ৩০ জন কাউন্সিলারের জায়গায় এখন পুরসভায় ৯০ জন ‘স্বেচ্ছাসেবী’ নিযুক্ত হয়েছেন। কিন্তু পরিষেবা সেই তিমিরেই আছে। আলো থেকে সাফাই, শংসাপত্র পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ, কোথাও কোথাও অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হচ্ছে। অর্থাৎ বিজেপির স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই না করেই পরিষেবা দিচ্ছেন। তাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাড়া বাড়তি সুবিধা পেলেও সামগ্রিক ওয়ার্ডের পরিষেবা প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিষেবা দেওয়া নিয়ে লম্ফঝম্ফ হলেও নাগরিকদের সুবিধা বিশেষ কিছু হয়নি। বিধায়ক সুবীর নাগ অবশ্য বলেন, এলাকাবাসী কো-অর্ডিনেটরদের কাজে খুব খুশি। তাঁরা অনেকেই আমাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তৃণমূল পুরসভাকে কঙ্কাল করে রেখে গিয়েছে। ফলে, উন্নয়নের সব কাজ করা কঠিন। পাশাপাশি, নির্বাচিত বোর্ড যেভাবে কাজ করতে পারে, প্রশাসক তা করতে পারেন না। তাই সমস্যা থাকবে, কিন্তু তারমধ্যেই আমরা সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করছি। গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, এক একটি ওয়ার্ডে মানুষের সমস্যা মেটাতে অনেক মানুষের প্রয়োজন। ওয়ার্ড পিছু তিনজন কর্মী নিযুক্ত হওয়ায় বাসিন্দাদের সুবিধাই হয়েছে। মানুষ তাদের সমস্যার কথা ওয়ার্ড সেবকদের জানালেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। তবে নাগরিকদের সঙ্গে তাঁদের সুষ্ঠু যোগাযোগ তৈরি হতে আরও একটু সময় লাগবে। 
সিপিএমের জেলা কমিটির নেতা মনোদীপ ঘোষ বলেন, পুরসভার নজরদারির নামে কিছু লোক নিয়োগ করে বিজেপি ক্ষমতা জাহির করেছে। এর বাইরে পরিষেবা সংক্রান্ত কোনো উন্নতি হয়নি। প্রতিদিন পুরভবনে গিয়ে বিভিন্ন শংসাপত্র পেতে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সাফাই থেকে আলো, নিকাশি নিয়ে সমস্যায় নাগরিকরা জেরবার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ