নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় উপভোক্তার সংখ্যা ১১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় মোট ১১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৩৪ জন মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। ব্লক ও মহকুমাভিত্তিক তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি অনিয়ম রুখতে নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর জেলাশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) গোবিন্দ হালদার-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সুবিধা, উপভোক্তার সংখ্যা এবং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরে আগে প্রায় ১৩ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালুর পর প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৭ লক্ষ মহিলাকে এর আওতায় আনা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আবেদন যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। সেই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার পর উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে ১১ লক্ষ ৬৬ হাজারের বেশি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কেশপুর ব্লকে মোট অনুমোদিত উপভোক্তার সংখ্যা ৮৮ হাজার ৯৩৮ জন। গড়বেতা-১, গড়বেতা-২ এবং গড়বেতা-৩ ব্লক মিলিয়ে এই সংখ্যা ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৩। মেদিনীপুর সদর মহকুমায় অনুমোদিত উপভোক্তার সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৭৪ জন। ঘাটাল ব্লকে রয়েছেন ৫৭ হাজার ৫০৪ জন।
খড়্গপুর মহকুমার অন্তর্গত খড়্গপুর-১ ব্লকে ৩৯ হাজার ৮৯ জন এবং খড়্গপুর-২ ব্লকে ৪৬ হাজার ৯৫ জন উপভোক্তা রয়েছেন। খড়্গপুর মহকুমায় মোট অনুমোদিত উপভোক্তার সংখ্যা ৩৫ হাজার ২৮৮ জন। এ ছাড়াও ডেবরা ব্লকে ৭৪ হাজার ৫২৪, পিংলায় ৫০ হাজার ১৩৪ এবং সবংয়ে ৬৯ হাজার ১৩১ জন উপভোক্তা রয়েছেন।
প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা যাতে জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও দ্রুত পৌঁছে যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আবেদনের যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং উপভোক্তাদের কাছে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মহিলা উপকৃত হতে শুরু করেছেন। এর ফলে জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদী তিনি। মেদিনীপুরের বাসিন্দা সঞ্চিতা দাস বলেন, মমতার সরকারের আমলে সবাই পেত। তবে এই সরকারের আমলে টাকা বেশি। এই টাকা সংসার চালাতে কাজে লাগবে।