নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন আড়াই লক্ষ ছাড়াল। নাকাশিপাড়া, তেহট্ট-১, কালীগঞ্জের মতো ব্লকে যুবসাথী প্রকল্পে বিপুল আবেদন আসছে। তবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনের সংখ্যা তিন লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। শহরের চেয়ে গ্রামগুলিতে এই প্রকল্পে আবেদনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আবেদন জমা নেওয়ার পর্বের শুরু থেকেই ব্লকগুলিতে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার আবেদন করার জন্য দীর্ঘ লাইনে হওয়ায় গণ্ডগোলও হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে যুবসাথী প্রকল্পকে রাজ্য সরকারে ‘মাস্টার স্ট্রোক’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রায় ৩০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়েছে। ভাল সাড়া মিলছে ভূমিহীন চাষিদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্পেও। তাতেও প্রায় ৩৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
নদীয়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, শিবিরগুলিতে ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বহু মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করছেন। দ্রুত অনুমোদনের ব্যাপারে আমরা জোর দিচ্ছি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার পর্যন্ত নদীয়া জেলায় যুবসাথী প্রকল্পে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে নাকাশিপাড়া ব্লকে ২২ হাজার ৭২৯, তেহট্ট-১ ব্লকে ১৯ হাজার ৭৭, করিমপুর-২ ব্লকে ১৬ হাজার ২০৮, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ১৫ হাজার ৪৬৬, রানাঘাট-২ ব্লকে ১৪ হাজার ৬৫৪, চাপড়া ব্লকে ১৩ হাজার ২৬০, চাকদহ ব্লকে ১২ হাজার ৪০৭, কালীগঞ্জ ব্লকের ১২ হাজার ২৭টি আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে পুরসভা এলাকাগুলির মধ্যে কৃষ্ণনগরে ৭৫৩৫, শান্তিপুরে ৭০৩৫, চাকদহে ৫৯১৭, নবদ্বীপ ও কল্যাণীতে ৩৬০২টি আবেদন জমা পড়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকাগুলির তুলনায় শহরের এলাকায় যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন অনেকটাই কম।
উল্লেখ্য অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন জমা পড়ছে। তবে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে যে সমস্ত প্রয়োজনে নথিগুলি জমা দিতে হচ্ছিল তাতে স্ব-প্রত্যয়নের দরকার পড়ছিল না। তবে নতুন নির্দেশিকায় তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম পরিবর্তনের ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে একাংশের মধ্যে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে পুরনো যেসব নথি জমা করা হয়েছিল সেই আবেদনগুলি কি বাতিল করা হবে? যদিও প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি, পুরোনো আবেদন বাতিল হবে না।
প্রসঙ্গত, যুবসাথী প্রকল্পে মাধ্যমিক পাস করার পর যারা কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁরা মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। যার ফলে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকদের যুবসাথীর লাইনে দেখা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এমএ পাস, ইঞ্জিনিয়ার। যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান খুব প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভাতা কিছুটা সহায় হলেও তা আর্থিক উপার্জনের বিকল্প নয়।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তেহট্ট-১ ব্লকে ৬৪৫২, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ৬২০৯ সহ সারা জেলার ২৯ হাজার মহিলা নতুন আবেদন করেছেন। নদীয়া জেলায় ইতিমধ্যেই ১৪ লক্ষ তিন হাজার মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।