Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিঃশব্দে গ্রিল কেটে উল্টোডাঙায় গয়না-নগদ সাবাড়, চুরির টেকনিকই ধরিয়ে দিল কুখ্যাত ‘বিড়াল’কে

নিঃঝুম রাতে পিন পড়লেও শব্দ হয়। অথচ তার হাতের এমনই গুণ যে, জানালার আস্ত গ্রিল কাটলেও তার টুঁ শব্দ পায় না কেউ।

নিঃশব্দে গ্রিল কেটে উল্টোডাঙায় গয়না-নগদ সাবাড়, চুরির টেকনিকই ধরিয়ে দিল কুখ্যাত ‘বিড়াল’কে
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিঃঝুম রাতে পিন পড়লেও শব্দ হয়। অথচ তার হাতের এমনই গুণ যে, জানালার আস্ত গ্রিল কাটলেও তার টুঁ শব্দ পায় না কেউ। এমনকী, সেই গ্রিল খোলার সময়ও টের পান না সেই ঘরের বাসিন্দারা। অন্ধকার ঘরে এতটাই নিঃশব্দে পা ফেলে যাতে ঘুম না ভাঙে গৃহস্থের। মাঝেমধ্যে বিড়ালও হার মানে তার এই কৌশলের কাছে।

Advertisement

গত ১৭ বছর ধরে এই টেকনিকে একের পর এক চুরি করেছে মানিকতলা থানা এলাকার বাগমারির বাসিন্দা তাপস দে। শহরের উত্তর-পূর্ব এলাকাতেই চৌর্যবৃত্তির বিস্তার তার। চুরির অভিযোগে আগে পাঁচবার কলকাতা পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল সে। নিঃশব্দে কাজ সাড়ার কারণে অপরাধ জগৎ এবং পুলিসের খাতায় ‘বিড়াল’ বলেই পরিচিত তাপস। 
৯ জুন ভোররাতে উল্টোডাঙা মোড়ের কাছে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। ২ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার হীরে ও সোনার গয়না লোপাট হয়ে যায়। ঠাকুরঘরের জানালার গ্রিল কেটেই ভিতরে প্রবেশ করেছিল দুষ্কৃতী। যখন ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে, সেই সময় বাড়ির সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠাকুরঘরের পাশের ঘরেই থাকেন ওই ব্যবসায়ীর প্রবীণ বাবা-মা। তাঁরাও গ্রিল খোলার টুঁ শব্দটি পাননি। তার পাশেই ঘুমিয়ে ছিলেন গৃহকর্তা শুভম বাজাজ ও তাঁর স্ত্রী। লোহার গ্রিল কেটে তাঁর ঘরে ঢুকে আলমারি খুলে গয়না হাপিস হয়ে গেলেও তার শব্দ পাননি দম্পতি। এখানেই সন্দেহ দানা বাঁধে উল্টোডাঙা থানার আধিকারিকদের। স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেও দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করতে পারেননি তাঁরা।
এরপর লালবাজারের নির্দেশে তদন্তভার হাতে নেয় গোয়েন্দা বিভাগের বার্গলারি দমন শাখা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গোয়েন্দারা কথা বলেন ব্যবসায়ী শুভমের সঙ্গে। গোয়েন্দারা বুঝতে পারেন, এসি’র আউটডোর মেশিনে পা দিয়ে দোতলায় উঠেছে অভিযুক্ত। সেখানে দাঁড়িয়েই খুলেছে ২৪ বর্গফুটের লোহার গ্রিল। লোহা কাটার শব্দ কেন টের পেলেন না ওই বাড়ির বাসিন্দারা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান তাঁরা। দুঁদে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, ‘বিড়াল’ ছাড়া এভাবে নিঃশব্দে লোহার গ্রিল খোলা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। পুলিসের খাতায় দেখা যায়, কুখ্যাত দুষ্কৃতী তাপস ওরফে বিড়াল অনেকদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এরপর তার বাগমারি রোডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। টানা জেরায় সে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এক স্বর্ণ বিপণির কর্মীর নাম উঠে আসে। ওই দোকানে তল্লাশি চালিয়েই উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া মূল্যবান অলঙ্কার।
উল্টোডাঙা থানার পুলিসের দাবি, দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় বড়সড় চুরির কোনও অভিযোগ নেই। তাই প্রাথমিকভাবে দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়। পারিপার্শ্বিক প্রমাণ দেখে বোঝা যায়, এলাকা খুব ভালোভাবে চেনে এমন কেউ এই ঘটনায় ‘কালপ্রিট’। চুরির টেকনিকই আসলে ধরিয়ে দিল অভিযুক্তকে, সেইসঙ্গে কিনারাও হল তদন্তের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ